গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) গণসংহতি আন্দোলন-এর প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর স্থানে দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলুকে। নিলু ইতিপূর্বে দলের রাজনৈতিক পরিষদের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রাজধানীর হাতিরপুলে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই সময় সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি নিজে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। জানানো হয় যে, দলের আসন্ন বিশেষ সাংগঠনিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বপর্যন্ত দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু এই ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার ইতিহাস

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট দেশের সাধারণ জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল গণসংহতি আন্দোলন। দীর্ঘ সময় ধরে নানামুখী সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পর ২০১৬ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত দলের তৃতীয় জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটায়। ওই সম্মেলনে জোনায়েদ সাকিকে প্রধান সমন্বয়কারী এবং আব্দুস সালামকে নির্বাহী সমন্বয়কারী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি ও সাংগঠনিক জটিলতা অতিক্রম করে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল নিবন্ধন লাভ করে দলটি।

সংসদ নির্বাচন, মন্ত্রিত্ব লাভ এবং দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পটভূমি

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে গণসংহতি আন্দোলন। দলের প্রতীক ‘মাথাল’ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন জোনায়েদ সাকি। পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারে তাঁকে প্রথমে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দপ্তর পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শুধু পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বহাল রাখা হয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে এবং দলীয় কাজের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই তিনি সংগঠনের প্রধান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলুর নেতৃত্বে দল তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দলটির ভেতর গণতান্ত্রিক চর্চা এবং নতুন নেতৃত্ব বিকাশের এক ইতিবাচক ধারা তৈরি হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #গণসংহতি_আন্দোলন