চন্দনাইশে অলি আহমদের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ ও ঝাঁড়ু মিছিল

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এলাকায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি এবং এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই তীব্র বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। শনিবার বিকেলে উপজেলার খাঁনহাট গাছবাড়িয়া কলেজ গেট এলাকা থেকে একটি ঝাড়ু ও জুতা মিছিল বের করা হয়, যা স্থানীয় প্রধান সড়ক এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। আন্দোলনকারীরা অলি আহমদের ছবি সংবলিত ব্যানার ও পোস্টারে লাল ক্রস চিহ্ন একে তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।

অলি আহমদকে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা

মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় দলের সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতারা ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সমাবেশ থেকে অলি আহমদকে চন্দনাইশ এবং সাতকানিয়া এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন যে, “স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে তথ্য বিকৃতি ঘটানো এবং ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহে বিতর্কিত সংশ্লিষ্টতার কারণে তাকে এই এলাকায় বয়কট করা হয়েছে।” এছাড়া আনোয়ারা ও পটিয়া হয়ে এই অঞ্চলে প্রবেশের প্রতিটি পথ তার জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, স্বাধীনতার মূল ইতিহাস রক্ষা করা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের নামে যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করতে তারা রাজপথে সদা সক্রিয় থাকবেন।

তারেক রহমান সম্পর্কে মন্তব্য ও নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বক্তারা আরও বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমান তরুণ প্রজন্মের প্রেরণা এবং একজন জনপ্রিয় দেশনেতা। তার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অসম্মানজনক বা অবমাননাকর মন্তব্য কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অলি আহমদকে ইতিহাস বিকৃতিকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তারা দাবি জানান যে, তাকে অনতিবিলম্বে নিজ বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। নেতাদের মতে, অলি আহমদ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত করছেন।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ

উক্ত প্রতিবাদী কর্মসূচি ও সমাবেশে বিএনপি, যুবদল এবং ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী একযোগে অংশ নেন। এতে উপস্থিত স্থানীয় জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আন্দোলনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উপস্থিত নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ইতিহাস বিকৃতি এবং মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে তাদের এই অবস্থান আরও কঠোর থেকে কঠোরতর হবে। যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে তারা তৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

#রাজনীতি #চট্টগ্রাম #বিএনপি #সংবাদ