রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের ডাক দিল ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য
ঢাকা শহরের বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও রাজপথের মিছিলের আয়োজন করেছে জামায়াতে ইসলামী সহ ১১টি রাজনৈতিক দলের গঠিত নির্বাচনি ঐক্য। দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার প্রস্তাব এবং বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে দলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৭ এপ্রিল এই ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নীতি নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
লিয়াঁজো কমিটির সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক রূপরেখা
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াঁজো কমিটির এক যৌথ বৈঠক শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে জোটের শীর্ষ প্রতিনিধি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১১টি দলের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দেশের বর্তমান শাসকদল ও সরকার সংসদ পরিচালনায় তাদের চরম ব্যর্থতা ও অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারের এই ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তারা দেশের মূল সংস্কার কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিষয়গুলোকে কেবল ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সংবিধান সংশোধনী ও রাজপথের আন্দোলনের ঘোষণা
হামিদুর রহমান আজাদ আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ও সরকারি দলের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। শাসকদল দেশের মানুষের প্রত্যাশিত মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কারগুলোকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে কেবল সংবিধানে কিছু উপরিভাগগত সংশোধনী আনার মাধ্যমে নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে চায়। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে, যা দেশের সাধারণ নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।” এমন এক সংকটময় রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং রাজনৈতিক সংস্কার আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথের ব্যাপক ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সামনে আর অন্য কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও গণদাবির সমন্বয়
রাজনৈতিক দলগুলোর এই জোটের মতে, জনগণের মূল দাবি ও আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যেকোনো একক সিদ্ধান্ত কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রতিহত করা হবে। আজ শনিবার বিকেলের বিক্ষোভ সমাবেশকে অত্যন্ত সফল করতে এবং ঢাকার রাজপথে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে জোটের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের সর্বসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। পরবর্তী কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগামী সপ্তাহের নেতাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। সেখান থেকে নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদী রাজপথভিত্তিক কর্মসূচি ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক বিশ্লেষকগণ।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিক্ষোভ #সংবাদ