রাশেদ প্রধানের বাসভবনে হামলার তীব্র নিন্দা ও আইনগত পদক্ষেপের দাবি

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি, মুখপাত্র এবং ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানের বাসভবনের সামনে সংঘটিত ‘মব সৃষ্টি’ ও হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি বাংলাদেশ-এর রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক সহনশীলতা রক্ষা ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার গুরুত্ব

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সেক্রেটারি জেনারেল এক বিশেষ বিবৃতিতে জানান, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বাসভবনে পুলিশের উপস্থিতিতে মব তৈরি ও আক্রমণ চালানো অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এই ধরনের আচরণ নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার এবং গণতন্ত্রের মূল ভাবনার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।” যেকোনো রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ কেবল গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক উপায়েই হওয়া উচিত, হিংসাত্মক উপায়ে নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনি সুবিধা প্রদান করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। মব সৃষ্টির সময় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এতে করে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা পাওয়া ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জনগণের মধ্যে ভয় ও শঙ্কা তৈরি করে এমন কোনো উগ্রতা বা দুর্বৃত্তায়ন এদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান এবং অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি

ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তার নিরাপত্তার বিষয়ে জামায়াত নেতৃবৃন্দ সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। তারা স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেন যে, গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনকারী যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে বলা হয়, ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। একই সঙ্গে রাশেদ প্রধানের ব্যক্তিগত সচিবের ওপর চালানো হামলা ও তাকে আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তার অনতিবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়।

সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উল্লেখ করে যে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিরোধী মত দমন, হামলা, চাঁদাবাজি এবং হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এটি সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার সম্পূর্ণ বিরোধী। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুসংহত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কর্মী-সমর্থকদের উশৃঙ্খলতা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতেই কেবল একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জামায়াতেইসলামী #আইনেরশাসন