বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও চরম লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে অভিনব মোমবাতি বিতরণ কর্মসূচি

কুমিল্লার জনবহুল দেবিদ্বারে অব্যাহত লোডশেডিং এবং মারাত্মক বিদ্যুৎ সংকটে অতিষ্ঠ ও চরম দুর্ভোগে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়ে এক অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এলাকায় চলমান তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রতীকী মোমবাতি বিতরণ করেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত খাইয়ার গ্রামে আয়োজিত এক বিশেষ প্রতিবাদ সভায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে মোমবাতি তুলে দেন।

জ্বালানি সংকট ও সরকারের নীতিগত অবস্থানের তীব্র সমালোচনা

সমাবেশে ভুক্তভোগী জনসাধারণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাসনাত সরকারের নীতিগত অবস্থানের কড়া ভাষা ও যুক্তিতে সমালোচনা করেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, সমগ্র দেশে চলমান জ্বালানি সংকট এক চরম উদ্বেগজনক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে, অথচ এটি নিরসনে কার্যকরী কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান চরম জ্বালানি সংকটের যে ভয়াবহ বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সরকার কোনোভাবেই স্বীকার করতে চাইছে না। জাতীয় সংসদে বারবার জোরালোভাবে দাবি করা হচ্ছে যে দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রাত্যহিক জীবনে মানুষ সারাদিন ন্যূনতম বিদ্যুতের আলো পাচ্ছে না এবং চরম অন্ধকারের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।”

তিনি সংসদীয় কার্যক্রমে জনগণের পক্ষে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো আশানুরূপ সুফল পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে আরও বলেন, “আমি সরাসরি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিকট স্পষ্ট জানতে চেয়েছিলাম যে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রকৃতপক্ষে কোনো বড় ধরনের ঘাটতি বা সমস্যা রয়েছে কি না। যেহেতু সরকার প্রকাশ্যে এই বাস্তব সংকট স্বীকার করতে প্রস্তুত নয় এবং সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার তীব্র প্রতিবাদেই আমরা আপনাদের হাতে এই মোমবাতি তুলে দিচ্ছি।”

জনজীবনের চরম স্থবিরতা ও স্থানীয় অধিবাসীদের অব্যাহত ভোগান্তি

প্রতিবাদ চলাকালে স্থানীয় প্রবীণ ও সচেতন বাসিন্দারা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান যে দীর্ঘদিন ধরে এই সমগ্র দেবিদ্বার এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনিয়মিত ও অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে সাধারণ জনপদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ও জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চলমান প্রখর তীব্র তাপদাহ ও গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন দুর্ভোগ চরম সীমায় পৌঁছেছে।

শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ প্রকাশ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জোরালো দাবি

বিদ্যুৎ সংকটের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের শারীরিক কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। রাতের বেলা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের পড়াশোনা ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষাজীবন ও পরীক্ষার ফলাফল ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা নিয়মিত বিদ্যুৎ সেবা না পাওয়ায় চরম আর্থিক লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং ব্যবসা পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

এমন এক অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে এলাকার সর্বস্তরের ভুক্তভোগী নাগরিক, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ ও পেশাজীবীরা অবিলম্বে এই দুর্বিষহ লোডশেডিং পরিস্থিতি থেকে চিরস্থায়ী মুক্তি চান। তারা আর কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিড থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল ও জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

#বিদ্যুৎসংকট #লোডশেডিং #কুমিল্লা #প্রতিবাদ #জাতীয়সংবাদ