ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে বাংলাদেশ মরুভূমির ঝুঁকিতে: বিএনপির গভীর উদ্বেগ
বিএনপি-র মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারত কর্তৃক গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার করার ফলে বাংলাদেশ-এর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ওই এলাকায় পানিসহ নানা প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা চরম ও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
ঐতিহাসিক লংমার্চ ও ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য
তিনি উল্লেখ করেন, ১৬ মে বাংলাদেশের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ৪৯ বছর আগে অবিসংবাদিত মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আহ্বানে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের লক্ষ্যে সারাদেশ থেকে লাখো জনতা ঐতিহাসিক ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চে অংশ নিয়েছিল।
মির্জা ফখরুল বলেন, পরিবেশগত ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়গুলো আমলে না নিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামতকে চরম উপেক্ষা করে ভারত-কে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই বাঁধ আজও চালু থাকায় তা এ দেশের মানুষের জন্য এক স্থায়ী মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৎকালীন সরকারের এই দূরদর্শীহীন সিদ্ধান্তের কারণেই এ দেশের সাধারণ মানুষ পানির ন্যায্য পাওনা থেকে আজ পর্যন্ত বঞ্চিত হয়ে আসছে।
একতরফা পানি প্রত্যাহার ও পরিবেশগত সংকট
তিনি আরও যোগ করেন, তৎকালীন দূরদর্শী নেতা মওলানা ভাসানী জনগণের বঞ্চনা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কথা চিন্তা করেই ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক পদযাত্রা করেন। এই লংমার্চের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিষয়টিকে তুলে ধরেছিলেন। আজও ফারাক্কা দিবসের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা আগের মতোই অত্যন্ত জোরালো। আন্তর্জাতিক নদী আইনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশ-এ প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করে পানি একতরফা প্রত্যাহার করা হচ্ছে, যা আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ।
এর ফলে দেশের কৃষি ও উর্বর ভূমি নিষ্ফলা মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার স্পষ্ট আলামত ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। নদী বিধৌত অঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঐতিহাসিক প্রেরণা
মির্জা ফখরুল বলেন, “১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা ভাসানীর সুদৃঢ় নেতৃত্বের অকুতোভয় পদযাত্রা রাজশাহী থেকে শুরু হয়ে ফারাক্কার দিকে এগিয়ে যায়।” এই ঐতিহাসিক ঘটনা প্রতি বছর এ দেশের নদীপ্রেমিক ও সচেতন জনগণকে নিজ দেশের সকল প্রকার সার্বভৌম অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নতুন করে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করে।
পরিশেষে তিনি ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দেশের নানা সামাজিক ও সচেতনতামূলক সংগঠনের সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
#ফারাক্কা_দিবস #বাংলাদেশ #রাজনীতি #পানি_বণ্টন