মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ পাচার ও দুর্নীতি রোধে জাতীয় নাগরিক পার্টির কঠোর হুঁশিয়ারি
ঢাকার কাকরাইলে আয়োজিত এক জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা দেশের বিগত ১৬-১৭ বছরের অর্থনৈতিক লুটপাট ও দুর্নীতি নিয়ে কঠোর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে উন্নয়ন কাজের কথা বলে বড় বড় মেগা প্রকল্পের আড়ালে কোনো ধরনের অর্থ পাচার বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট বরদাশত করা হবে না। দেশের সাধারণ মানুষের অর্থ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের জন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের প্রধান দাবি বলে সভায় মন্তব্য করা হয়।
বিগত শাসন আমলের আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের চিত্র
কনভেনশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান বক্তারা বলেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে মেগা প্রকল্পের নামে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করেছে। তাদের মতে, গত দেড় দশকে দেশ থেকে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হতো, তবে দেশের যাতায়াত ও অবকাঠামোগত খাতে বহু বিশাল পরিবর্তন আনা সম্ভব হতো। এমনকি দেশের অভ্যন্তরে জনকল্যাণমূলক কাজের পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পেত।
নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারি আমলাদের দুর্নীতি তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদেশে বিশাল অঙ্কের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে, অথচ দেশের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক সংকটে দিনাতিপাত করছে। ব্যাংক খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ফলে আর্থিক খাত এখন চরম ভঙ্গুর অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। একাধিক ব্যাংক থেকে ভুয়া কাগজপত্র ও প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, যা সরাসরি দেশের সাধারণ ব্যাংকিং গ্রাহকদের আমানতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
মেগা প্রকল্প, আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ
জাতীয় কনভেনশনে অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো প্রকল্প রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিষয় তুলে ধরা হয়। বক্তারা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্র উল্লেখ করে দাবি করেন, রূপপুর প্রকল্পের মতো বড় বড় প্রকল্পে বিশাল অংকের কমিশন বাণিজ্যের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিক বাড়িয়ে ধরে বিদেশি বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর বড় ধরনের আঘাত।
ভবিষ্যতের রূপরেখা: সংস্কার, গণভোট ও জনগণের ক্ষমতায়ন
জাতীয় কনভেনশনের পক্ষ থেকে দেশের জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার এবং সার্বিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, “ভবিষ্যতে যেন মেগা প্রকল্পের নামে কোনো প্রকার মেগা ডাকাতি বা দুর্নীতি না ঘটে, সরকারকে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।” দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নীতি নির্ধারণে গণভোটের ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
তারা জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো স্বচ্ছ ও জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক হতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থ তছরুপের সংস্কৃতি স্থায়ীভাবে বন্ধ না করা গেলে দেশের স্থায়ী রূপান্তর সম্ভব নয়। তাই অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার আহ্বান জানানো হয়।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #অর্থনীতি #দুর্নীতি #এনসিপি