ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নতুন রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ

দেশের রাজধানী ঢাকার প্রধান দুই নগর সংস্থা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) নতুন রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রশাসকই দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি-র জ্যেষ্ঠ ও বর্ষীয়ান নেতা। স্থানীয় সরকার কাঠামোর পুনর্গঠন ও নাগরিক সেবা গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দলীয় ও প্রশাসনিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কেবল সাময়িক প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্যই নয়, বরং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই দুই শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য অঘোষিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ সিটির নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বিএনপি-র শীর্ষপর্যায়ের একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা। এর পূর্বে তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দৌড়ঝাঁপ করছেন এবং এলাকার সাধারণ উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করছেন।

ডিএসসিসির প্রশাসনিক সূত্রমতে, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে পদটি শূন্য ছিল। পরবর্তীতে সরকার নতুন রাজনৈতিক প্রশাসক হিসেবে আবদুস সালামকে মনোনীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আবদুস সালাম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “দল আমাকে এই পদে দায়িত্ব দিয়েছে এবং আগামীতে জনগণের সমর্থন নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পূর্ণ ইচ্ছা রয়েছে।” ইতিমধ্যে রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল, নয়াপল্টন এবং বঙ্গবাজার এলাকায় তার সমর্থনে অসংখ্য পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে।

এদিকে প্রশাসক নিয়োগের পরপরই ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন মেয়র পদে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিলে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়। তবে পরবর্তীতে নগর ভবনে প্রশাসক আবদুস সালামের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি জানান, দলের হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে তিনি সে অনুসারেই কাজ করবেন। সকল রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে এখন একক প্রার্থীর অধীনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তর সিটিতে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের প্রস্তুতি

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। উক্ত নির্বাচনে রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমিরের কাছে তিনি পরাভূত হলেও পরবর্তীতে স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় থেকেছেন।

এর আগে ডিএনসিসির মেয়র পদে আতিকুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রশাসক হিসেবে শফিকুল ইসলাম খানকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। নিজের রূপরেখা তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “রাজনীতি করার মূল উদ্দেশ্যই হলো সাধারণ মানুষের সেবা করা। আসন্ন নির্বাচনে দল যাকে মনোনীত করবে, তার পক্ষেই সকলে সুসংগঠিতভাবে কাজ করবে।”

নির্বাচনের সম্ভাবনা ও স্থানীয় সরকারের সার্বিক চিত্র

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অতি দ্রুততম সময়ে দেশের সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানীর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দল বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চালাচ্ছে। তবে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিক সমস্যা দূরীকরণে বর্তমান উদ্যোগকে নগরবাসী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

#রাজনীতি #সিটি_করপোরেশন #ঢাকা #নির্বাচন