শাপলা চত্বরের ইতিহাস ও বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকা

ঢাকা শহরের বুক ঘেঁষে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে শাপলা স্মৃতি সংসদ কর্তৃক অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সঙ্গে আয়োজিত ‘শাপলার স্মৃতি শহীদগাঁথা’ শীর্ষক এক বিশেষ স্মরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। উক্ত সুধী ও প্রতিনিধি সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, শাপলা চত্বরে সংঘটিত নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেবল সাধারণ কোনো রাজনৈতিক বিক্ষোভ বা সাময়িক অস্থিতিশীলতা হিসেবে নয়, বরং একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত, সুনির্দিষ্ট এবং ভয়াবহ গণহত্যা হিসেবে দেশের জাতীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার সাহসী ও কালজয়ী ভূমিকা পালন করেছিল তৎকালীন অন্যতম প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি। তৎকালীন সময়ের অমানবিক ও স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর চোখরাঙানি, রাষ্ট্রীয় চরম ভয়ভীতি এবং দেশজুড়ে চলমান বহুমুখী ভয়াবহ নিপীড়ন সত্ত্বেও দলটি সাধারণ মানুষের ন্যায়সংগত অধিকার ও সত্যের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ হতে দেয়নি।

অপপ্রচার, মিডিয়ার ভূমিকা ও রাজপথের নিদারুণ বাস্তবতা

আলোচনা সভায় নিজ বক্তব্য অব্যাহত রেখে তথ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আক্ষেপ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার এবং তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে পরিচালিত একশ্রেণীর বিকৃত গণমাধ্যম উক্ত ট্র্যাজিক ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক খাতে প্রবাহিত করার এক অত্যন্ত হীন ও অপকৌশলপূর্ণ চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিল। সেই সময়ে রাষ্ট্রীয় ও পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া মিডিয়াগুলোর সাহায্যে পরিকল্পিতভাবে সত্যকে ঢেকে রেখে বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য দেশজুড়ে ব্যাপক হারে প্রচার ও প্রসার করা হয়, যাতে সাধারণ জনগণ ঘটনার আসল চিত্র থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ও অন্ধ হয়ে থাকে। “ঘটনার প্রকৃত সত্যকে চরম নিষ্ঠুরতার সঙ্গে গোপন করে উল্টো নির্যাতিত গণমানুষ ও বিরোধী দলের লাখ লাখ নেতাকর্মীদের ওপরই অপরাধের মিথ্যা দায় জোরপূর্বক চাপানোর ঘৃণ্য চেষ্টা চালানো হয়েছিল,” বলে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র দেশজুড়ে বিএনপি-র শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে একদম তৃণমূল পর্যন্ত হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে অগণিত কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে সমগ্র দেশে দীর্ঘদিনের জন্য এক চরম রাজনৈতিক ভয়াবহতা, দমন-পীড়ন এবং অমানবিক বিচারহীনতার নজিরবিহীন পরিবেশ কায়েম করা হয়।

ফ্যাসিবাদবিরোধী সর্বদলীয় ঐতিহাসিক জাতীয় ঐক্য

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে গণমানুষের ন্যায়সংগত সংগ্রামকে চিরতরে নিঃশেষ বা দমন করার ভয়াবহ অত্যাচার চালানো হলেও সচেতন জনতার অদম্য চেতনাকে কখনোই স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলিত করা যায়নি। এই নির্মম অবিচারের ধারাবাহিকতার বিরুদ্ধে সময়ের পরিক্রমায় দেশের আপামর ধর্মপ্রাণ জনগণ, ছাত্র সমাজ এবং রাজপথের সকল প্রগতিশীল ও জাতীয়তাবাদী বিরোধী শক্তির মধ্যে এক অভূতপূর্ব, ইস্পাতকঠিন ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। এই দুর্ভেদ্য ও সুদৃঢ় গণঐক্যের অদম্য প্রবাহ থেকেই পরবর্তীতে ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লব ত্বরান্বিত হয় এবং দীর্ঘকালের স্বৈরাচারী শাসনের চূড়ান্ত পতন ঘটে এক নতুন ও সোনালী রাজনৈতিক যুগের ঐতিহাসিক সূচনা হয়।

সংসদে স্বীকৃতি, শহীদদের মর্যাদা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা

বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী নীতি ও কঠোর অবস্থানের চিত্র তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জাতীয় সংসদে শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মত্যাগকে সার্বভৌম রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও অসীম সম্মান প্রদান করা হয়েছে। “অতীতের সংঘটিত যেকোনো অন্যায়, নিপীড়ন বা গুরুতর মানবতাবিরোধী ঘটনাকে কখনো তামাদি হতে দেওয়া হবে না,” মর্মে তিনি জোরালো আশ্বাস উচ্চারণ করেন। পরিশেষে, দেশের সংহতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সকলকে একজোট থাকার আহ্বান জানান তিনি।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জাতীয়তাবাদ