শাপলা চত্বরের ঘটনায় বিএনপির ভূমিকা বিশ্লেষণের দাবি নাহিদ ইসলামের
কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২০১৩ সালে মতিঝিল শাপলা চত্বরের ঘটনায় বিএনপি-র ভূমিকা কেমন ছিল তা গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় দেশের একটি বড় অংশ চরম বিপদের মুখে থাকলেও প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি-র আরও সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল। এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা: বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে তিনি এসব কথা বলেন।
আলেম-ওলামাদের রাজনৈতিক ব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে আলেম-ওলামা ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে আসছে। এমনকি সংঘাতময় পরিস্থিতির মুখে মাদরাসার ছাত্রদের ঠেলে দেওয়ার দায়ও কোনো দল এড়াতে পারে না। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, “যুদ্ধের অপরাধের বিচারের নামে বিরোধী মত দমন ও ইসলামবিদ্বেষ উসকে দেওয়া হয়েছিল।” সে সময় হেফাজতে ইসলাম-এর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ‘তাণ্ডব’ হিসেবে প্রচার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অপরাধী বা জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা চালানো হয়।
তিনি আরও যোগ করেন, শাপলা চত্বরে সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার না হওয়ার কারণেই পরবর্তীতে দেশে ভয়াবহ জুলাই গণহত্যার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ। আলেম-ওলামাদের সমাজের মূলধারা থেকে আলাদা ভাবার মানসিকতা ত্যাগ করে তাদের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সীমান্ত নিরাপত্তা, জাতীয় অধিকার ও চার দফা দাবি
অনুষ্ঠানে সীমান্তে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং অব্যাহত নাগরিক হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্ত হত্যা চালিয়ে কিংবা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কখনো প্রকৃত বন্ধুত্ব অর্জন করা যায় না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ-এর সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
২০১৩ সালের ৫ মে রাতে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার বিচার নিশ্চিতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স ৪ দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ও নিখোঁজদের তালিকা প্রকাশ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গণহত্যার নির্দেশদাতাদের দ্রুত বিচার, শহীদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের পুনর্বাসন প্রদান এবং আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।
বক্তাদের আহ্বান ও সার্বিক প্রতিক্রিয়া
আলোচনা সভায় কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, “আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচার উৎখাত করলেও এখনো প্রকৃত গাঠনিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি।” তিনি বাহ্যিক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে সকলকে বিপ্লবী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেন। অন্যান্য বক্তারাও সুনির্দিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং ঘটনাটির সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি জানান। উক্ত আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #শাপলা_চত্বর