সীমান্তের সব অপরাধমূলক ঘটনাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সীমান্তে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা অনুপ্রবেশের ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টিকে ঢালাওভাবে ‘বর্ডার কিলিং’ বা সীমান্ত হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এ বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অপরাধ দমনে প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
সীমান্ত হত্যার সঠিক সংজ্ঞা ও আইনি ব্যাখ্যা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্ত হত্যা বা বর্ডার কিলিং শব্দটির যথাযথ প্রয়োগ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যদি অন্য দেশের সীমান্তরক্ষী বা সশস্ত্র বাহিনী আমাদের আন্তর্জাতিক সীমানা কিংবা জিরো লাইনে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে, তবেই সেটিকে আমরা প্রকৃত অর্থে বর্ডার কিলিং বলতে পারি।” তবে নিজ নিজ সীমানার অভ্যন্তরে যদি কোনো নাগরিক বা ব্যক্তি অবৈধ ট্রেসপাস অর্থাৎ অবৈধ অনুপ্রবেশ করে এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয়, তবে সে ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশের প্রচলিত আইনের অধীন বিবেচিত হবে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, সীমান্ত অপরাধ দমনে দুই দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিজস্ব আইনগত এখতিয়ার রয়েছে। ফলে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে সীমান্তে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সেটিকে সরাসরি ‘বর্ডার কিলিং’ হিসেবে অভিহিত না করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
আসন্ন মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক ও আলোচনার এজেন্ডা
বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী অর্থাৎ বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন ডিজি পর্যায়ের বৈঠক সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি দুই দেশের একটি নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া, যা প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে উভয় দেশে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই বৈঠকে সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, উভয় দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তা স্থায়ীভাবে সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এই বৈঠকে জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে।
অনুপ্রবেশ, পুশব্যাক ও নাগরিক প্রত্যাবাসন নীতি
পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৈরি হওয়া সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশব্যাকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় আমাদের বিজিবি অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ দৃষ্টি রাখছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি কোনো বাংলাদেশি নাগরিক কোনো কারণে অন্য দেশে অবস্থান করে থাকে, তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। “কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে উপযুক্ত তালিকার মাধ্যমে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে, প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।” বর্তমানে এ ধরনের কোনো বকেয়া বিষয়টি ঝুলে নেই বলে তিনি জানান।
#সীমান্ত_নিরাপত্তা #বাংলাদেশ #স্বরাষ্ট্র_মন্ত্রণালয় #বিজিবি