সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সফলতার চূড়ায় পৌঁছানোর বার্তা জেলা প্রশাসকের
চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ (জেলা পর্যায়)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি তরুণ খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে সামনে যত সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতাই থাকুক না কেন, সুদৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং নিরবচ্ছিন্ন অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তা অতিক্রম করে সফলতার চূড়ায় পৌঁছানো পুরোপুরি সম্ভব। পৃথিবীর ইতিহাসে যারা নিজেদের মেধা ও কর্মের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, তাদের অধিকাংশই নানা অভাব, অনটন ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়েই নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন।
বড় স্বপ্ন ও আত্মনিয়োজনের আহ্বান
তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, অনেকেরই মনে হতে পারে যে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। তবে যারা সফল হয়েছেন, তারা ত্যাগের মাধ্যমেই নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছেন। তাই বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ-এর মান ও সম্মান আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে খেলাধুলা অনন্য ভূমিকা রাখে। তবে এর জন্য নিয়মিত অনুশীলন, আত্মনিবেদন এবং নিজের সক্ষমতা প্রতিনিয়ত উন্নত করার মানসিকতা বজায় রাখা জরুরি।
প্রযুক্তির ক্রমবিকাশের উদাহরণ দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যেভাবে নতুন নতুন প্রযুক্তির সংস্করণ আসে, ঠিক সেভাবেই আমাদেরও প্রতিদিন নিজেদের আরও উন্নত সংস্করণ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” একজন ব্যাটসম্যানকে কালকের ম্যাচে আজকের চেয়ে ভালো পারফর্ম করতে হবে এবং একজন বোলারকে নিয়মিত নতুন বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে হবে। শেখার এই প্রক্রিয়া কখনো শেষ হয় না।
তরুণদের বিকাশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন
তরুণদের দেশের প্রকৃত সম্পদ বলে অভিহিত করে তিনি উল্লেখ করেন, প্রত্যেকের জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও স্বপ্ন থাকা উচিত। এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে, যা নিজের সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করা যায়। তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি ও অনলাইন গেমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া চর্চার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সরকার তরুণ প্রজন্মকে একজন সুস্থ, অত্যন্ত দক্ষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নানা রকম খেলাধুলার পরিধি সম্প্রসারণে কাজ করছে।
দলগত চেতনা ও নেতৃত্ব বিকাশে খেলাধুলা
খেলাধুলার সবচেয়ে বড় শিক্ষার কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, একা একা কখনো কোনো মহান কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। খেলাধুলা আমাদের সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে শেখায় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সেরা নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তোলে। একটি সুসংগঠিত দেশ গঠনের ক্ষেত্রেও এই দলগত চেতনা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্টটিতে জেলার মোট ১১টি বিশিষ্ট স্কুল দল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর প্রধান অতিথি আকাশে রঙিন বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
#খেলাধুলা #ক্রিকেট #চট্টগ্রাম #যুবউন্নয়ন