ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান

ঢাকা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র যেকোনো ধরনের অবনতি দেশের সমগ্র অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের জন্য গুরুতর পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলে তীব্র হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামাআতে ইসলামী-র আমীর ড. শফিকুর রহমান। তিনি জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকের সার্বিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

ব্যাংকিং খাত ও জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা

জাতীয় সংসদের সাধারণ আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখতে ইসলামী ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হলে দেশের সমগ্র ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” তাই এই বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুশাসন নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি।

মালিকানা ও শেয়ার হস্তান্তরে অনিয়মের অভিযোগ

সংসদে দেওয়া প্রস্তাবে শফিকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারসমূহ তাদের প্রকৃত ও বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে ব্যাংকের দৈনন্দিন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ চিরতরে বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে ব্যাংকটির শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছিল, যার ফলে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে।

তিনি ব্যাংকের বর্তমান পরিচালন পর্ষদের চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অতীতে এস আলম গ্রুপ যখন ব্যাংকটির ওপর একক প্রভাব বিস্তার করেছিল, তখন চেয়ারম্যানের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে গ্রহণ করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছিল, যা আর্থিক খাতে মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি করেছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও সুশাসনের সংকট

বিরোধী দলীয় নেতা আরও দাবি করেন যে, কোনো ধরনের উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই ব্যাংকটিতে প্রায় ১০,০০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের অনিয়মতান্ত্রিক ও অপেশাদার নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফলে ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যাংকের ঋণ নেওয়ার বিষয়ে তোলা অভিযোগের জবাবে তিনি প্রমাণের আহ্বান জানান এবং বলেন, দল-মত নির্বিশেষে যেকোনো আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “যদি অন্যায়ের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিনা ব্যতিক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

সামগ্রিক আর্থিক খাতের ওপর প্রভাব

ইসলামী ব্যাংকের একজন শেয়ারহোল্ডার ও সাধারণ গ্রাহক হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, তার এই উদ্যোগ কেবল আমানতকারীদের স্বার্থ ও সার্বিক জনস্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে। ব্যাংকটিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা চলতে থাকলে তা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দেশ-বিদেশের গ্রাহকদের আস্থা কমিয়ে দেবে। একটি বড় ব্যাংকের অস্থিতিশীলতা পুরো অর্থব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তিনি সরকারকে অনুমানের ওপর ভিত্তি না করে সঠিক ও সত্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান, যেন গ্রাহক ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

#অর্থনীতি #ইসলামী_ব্যাংক #বাংলাদেশ #ব্যাংকিং_খাত