ঈদুল আজহায় সরকারের ১০টি জনমুখী উদ্যোগ ও সুশাসনের অনন্য প্রতিফলন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া নানা গণমুখী উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় সেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার যথার্থ প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। ঢাকা শহরে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বক্তব্য প্রদান করেন। মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন যে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে নির্বাচিত সরকারের ইতোমধ্যে তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। সময়কাল হিসেবে এটি খুব বেশি দীর্ঘ না হলেও একটি প্রতিশ্রুতিশীল গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য প্রতিটি দিনই জনগণের প্রতি প্রদত্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অন্যতম দিন। প্রতিটি মুহূর্তই দায়িত্ব পালনের কঠিন পরীক্ষা এবং সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ নাগরিক সেবা ও জবাবদিহিতার স্পষ্ট প্রতিফলন।

শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী পালন ও পরিবর্তনমুখী নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি

সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বিশেষভাবে বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সারাদেশে চরম শ্রদ্ধা, আবেগ ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এই শাহাদতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বলয় ভেঙে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে বাধ্য করা হয়নি, কোনো কোমলমতি শিক্ষার্থীকে তীব্র রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়নি এবং জনঅর্থের অপচয় করে কোনো আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনও করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতার বলয়ে নির্মিত সাময়িক জনপ্রিয়তা ইতিহাস মেনে টিকে থাকে না, কেবল মানুষের হৃদয়ের ভালোবাসাই নেতৃত্বকে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখে।”

ঈদ ব্যবস্থাপনায় ১০টি বিশেষ জনমুখী পদক্ষেপের বাস্তব রূপায়ণ

মাহ্দী আমিন জানান, টানা দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রশাসনিক অচলাবস্থা রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়, তবে এবারের ঈদে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের আন্তরিকতা দৃশ্যমান ছিল। সরকারের বিশেষ ১০টি বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সেগুলো হলো— নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান, দেশীয় খামারি ও পশুর বাজার সুরক্ষা, দ্রুত সময়ের মধ্যে কোরবানি বর্জ্য অপসারণ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, হাটে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রক্ষা, জননিরাপত্তা জোরদার, চামড়া খাতের যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা।

সড়ক ব্যবস্থাপনা, শ্রমিক কল্যাণ ও কোরবানির পশুর বাজার

ছুটি এক সপ্তাহ করার কারণে মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ একসঙ্গে কেন্দ্রীভূত হয়নি, যার ফলে যানজট নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে টাঙ্গাইল সহ কিছু স্থানের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করা হয়। তৈরি পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য খাতের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ায় কোনো সড়ক অবরোধ হয়নি। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ কঠোরভাবে বন্ধ করায় দেশে ১ কোটি ১ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে কোরবানিযোগ্য ১ কোটি ২৩ লাখ পশু প্রস্তুত ছিল, যা দেশে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনে।

বর্জ্য অপসারণে কড়া নজরদারি ও প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন তদারকি

ঈদের দিন থেকে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালুর ফলে মাত্র ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে সিংহভাগ বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়। ঈদের পরদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। অবহেলার অভিযোগে কয়েকজন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়।

পরিবহন ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা ও বাজার পরিস্থিতি

রেল ও মেট্রোরেলে মহিলাদের জন্য পৃথক কোচ এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ছাড় কার্যকর করা হয়। লঞ্চ ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ ও বছিলা ও কাঞ্চন সেতুতে নতুন ঘাট চালু করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত পশুর নিরাপত্তা, চামড়ার সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ এবং টাস্কফোর্সের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার নিরলস কাজ করেছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #ঈদুলআজহা #সুশাসন