সংসদ সদস্যদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, সংসদ সদস্যদের প্রস্তাব উত্থাপন ও বিল পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সঠিক ধারণা থাকার জন্য কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা অত্যন্ত আবশ্যক। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ বিষয়ক এক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে কার্যপ্রণালি বিধি কেবল কোনো প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি দায়িত্ব সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মূল হাতিয়ার।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও জবাবদিহিমূলক শাসন

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্পিকার বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গণতান্ত্রিক নবযাত্রায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” জনগণের কাছে একটি সম্পূর্ণ জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে জনগণের গভীর আস্থা পূরণে সংসদ সদস্যরা সর্বদা জনপ্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংসদ কেবল রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় না। বরং গঠনমূলক বিরোধী দল এবং সরকারি দলের সমান দক্ষতায় কার্যপ্রণালি বিধিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জনসম্পৃক্ততা ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।

স্পিকার তার বক্তব্যে সংসদের তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন। এই মূল দায়িত্বগুলো হলো আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহিমূলক কাঠামোর অন্তর্ভুক্তির আওতায় এনে সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। তিনি আরও জানান যে সংসদীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রোগ্রাম সংসদ সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।

জনপ্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা

উক্ত ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বের গুরুদায়িত্ব নিয়েই সংসদ সদস্যরা তাদের কর্মভার গ্রহণ করেছেন। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি তাদের মৌলিক অধিকার ও অর্পিত দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছে। এই দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালনে তারা বাংলাদেশ-এর সাধারণ জনগণের প্রতি গভীরভাবে দায়বদ্ধ।

তিনি আরও যোগ করেন যে সংসদ সদস্যদের অবশ্যই সংসদের প্রতিটি কার্যক্রমে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। কার্যপ্রণালি বিধির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে তারা সংসদের ভেতর জনগণের মূল দাবি ও সমস্যাগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেন। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও জনকল্যাণমুখী করতে সংসদ সদস্যদের এই নিয়মকানুন মেনে চলা এবং সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।

সংসদীয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা

গণতান্ত্রিক ধারাকে বেগবান রাখতে এবং সংসদীয় কাঠামোর ওপর জনগণের পূর্ণ আস্থা বজায় রাখতে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভূমিকা অপরিসীম। সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদ সদস্যরা যত বেশি নিয়মকানুন ও আইন বিষয়ে দক্ষ হবেন, দেশের সার্বিক শাসনব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ততটাই স্বচ্ছ ও সুদৃঢ় হবে বলে সভায় অভিমত প্রকাশ করা হয়। সকল জনপ্রতিনিধির সমন্বিত প্রচেষ্টাই দেশের গণতন্ত্রকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম।

#জাতীয়সংসদ #রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ