পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার সেই পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন। সরকার ও রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর তা সরকারি গেজেট আকারে জনসাধারণের জন্য প্রকাশিত হয়। প্রজ্ঞাপনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের জমাদানকৃত পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে এবং এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান নিজ কার্যালয়ে আসেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট তার স্বহস্তে লেখা পদত্যাগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। পদত্যাগপত্রে মন্ত্রী তার বর্তমান শারীরিক অসুস্থতা এবং স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতার কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, যা তার দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি দীপেন দেওয়ান, এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নানাবিধ জটিলতা তৈরি হচ্ছে।” তিনি আরও মনে করেন যে, বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে তার পদ থেকে অবমুক্ত হওয়া জরুরি। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র গ্রহণের অনুরোধ জানান।

পার্বত্য অঞ্চলের প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সরকারের নীতি

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সার্বিক শান্তি, স্থায়িত্ব ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার শুরু থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং সেখানকার অবকাঠামোগত মূল উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। রাষ্ট্রীয় মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ওই পাহাড়ি অঞ্চলের সকল মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের এই পদত্যাগের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব অর্পণ করা হবে নাকি সাময়িকভাবে অন্য কারও ওপর প্রশাসনিক মূল দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে যাতে কোনো ধরনের স্থবিরতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য খুব দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সেবা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখতে মন্ত্রণালয় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে যাবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং নাগরিক সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। খুব শীঘ্রই নতুন যোগ্য নেতৃত্ব নির্ধারণ করে পার্বত্য অঞ্চলের প্রশাসনিক গতি বাড়ানো হবে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #পার্বত্য_চট্টগ্রাম #পদত্যাগ