সারোয়ার তুষারের তীব্র প্রতিক্রিয়া: সংসদ সদস্যের মন্তব্যের জবাব

সম্প্রতি একজন সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্য নিয়ে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই সংসদ সদস্য এক মন্তব্যে উল্লেখ করেছিলেন যে এনসিপি এমন কোনো বড় শক্তি নয়, অর্থাৎ ‘এনসিপি ইজ নাথিং’। তার এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে পোস্ট করেছেন দলটির যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি দাবি করেছেন, 해당 সংসদ সদস্য নিজের দলের প্রতীকে নির্বাচন করলে অত্যন্ত নগণ্য পরিমাণ ভোট পেতেন, যা ২০০-এর বেশি হতো না।

অতীত ইতিহাস এবং রাজনৈতিক পটভূমি নিয়ে সমালোচনা

সারোয়ার তুষার তার দীর্ঘ ফেসবুক বার্তায় সেই সংসদ সদস্যের অতীত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তুলে ধরে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, সংসদ সদস্যের ইংরেজি টোনে কথা বলার ভঙ্গিটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম। তুষার আরও উল্লেখ করেন যে, এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পূর্বে এক সামরিক স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। একপর্যায়ে তাকে সেই পদ থেকে বহিষ্কার করা হলেও পরবর্তীকালে তিনি ক্ষমার আবেদন করে পুনরায় পদ ফিরে পেতে সক্ষম হন। এই ধরনের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে তিনি বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছেন।

রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ওই সংসদ সদস্য নিজের রাজনৈতিক আদর্শ এবং নিজের দলের অবস্থান বিসর্জন দিয়েছেন বলে তুষার অভিযোগ করেন। তুষার স্মরণ করিয়ে দেন যে, উক্ত সংসদ সদস্য একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে জয়লাভ করার উদ্দেশ্যে নিজের দল বিলুপ্ত করে দেন। এরপর তিনি প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপি-র দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। তুষার মনে করেন, নিজের প্রতীকে নির্বাচন করার ন্যূনতম সাহস এবং জনসমর্থন সেই নেতার ছিল না।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান ও এনসিপির অবস্থান

তুষার তার বক্তব্যে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যিনি নিজের রাজনৈতিক দলের মার্কায় ভোট করার সক্ষমতা বা আস্থা রাখেন না, তার মুখে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল নিয়ে এমন মন্তব্য শোভা পায় না। এনসিপি দেশের প্রায় ৩০টি আসনে নিজেদের দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এবং মোট ভোটের প্রায় ৩ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট অর্জন করেছিল। এটি একটি নতুন ও উদীয়মান রাজনৈতিক দল হিসেবে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য অর্জন।

পোস্টের শেষ অংশে সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপ-প্রধান তুষার মন্তব্য করেন, যারা নিজেদের জনসমর্থন সম্পর্কে সচেষ্ট নয়, তাদের মুখে নতুন ধারা ও ধারার দল নিয়ে এই ধরণের কটূক্তি নিছক উপহাসের শামিল। তাই তিনি এই বিষয়টিকে একটি রসাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন। পুরো ঘটনাটি বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ চর্চিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #নির্বাচন