ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু
ফরিদপুর জেলার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা অবস্থায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর এক স্থানীয় কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত তরুণদের নাম মোঃ ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত। ২৮ বছর বয়সী এই যুবক মধুখালী পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত গন্ডারদিয়া এলাকার প্রয়াত এসকেন্দার হায়দারের ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ডিবি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে আকস্মিকভাবে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেওয়ায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযান ও আটকের বিবরণ
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাত আনুমানিক দুইটার দিকে গন্ডারদিয়া এলাকায় এক বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানকালে ইশতিয়াককে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরে ফেলে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। পরবর্তীতে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে জেলা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। তবে ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছানোর মাত্র এক ঘণ্টা পর থেকেই ওই যুবকের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং তিনি মারাত্মক শ্বাসকষ্ট অনুভব করছেন বলে জানান।
ডিবি পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, শ্বাসকষ্টের তীব্রতা বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে শারীরিক অবস্থার উন্নতির উদ্দেশ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করা হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইশতিয়াক। হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় তার অবস্থা সংকটজনক ছিল বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও ডাক্তারি পরীক্ষা
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্টার জানান, চিকিৎসকদের প্রথমিক পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তীতে সম্পন্ন করা সিটি স্ক্যান পরীক্ষার রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ওই যুবক মূলত ব্রেন স্ট্রোকের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি আরও নিশ্চিত করে জানান যে, “মৃত যুবকের শরীরের কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।” ফলে বাহ্যিক কোনো নির্যাতনের কারণে মৃত্যু হয়নি বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ওই তরুণকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। গ্রেফতারের পর তিনি হুট করেই মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ প্রধান উল্লেখ করেন, “আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও পরীক্ষা থেকে জেনেছি যে তার মৃত্যু ব্রেন স্ট্রোকের ফলে হয়েছে।” তা সত্ত্বেও বিষয়টি যেহেতু অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই পুরো ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্পূর্ণ বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
#বাংলাদেশ #ফরিদপুর #ডিবিপুলিশ #আইনশৃঙ্খলা