মগবাজারে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: পোস্টমর্টেম ছাড়া দাফনে আইনি জটিলতার আশঙ্কা
ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন জেনারেল হাসপাতালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ছয় নবজাতকের হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টমর্টেম বা ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত শিশুদের দাফন করার বিষয়টি তদন্ত প্রক্রিয়ায় এক বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে। এই সংবেদনশীল বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে, আইনি বিচার প্রক্রিয়ায় এর একটি বড় প্রভাব পড়তে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়ার সুবিধা
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, “কোনো মামলায় যদি ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা না হয়, তবে বিচারকার্যের পরবর্তী একটি পর্যায়ে আসামিপক্ষ সেই সুযোগ বা সুবিধা গ্রহণ করে থাকে।” তিনি উল্লেখ করেন যে ময়নাতদন্ত না করা হলে মামলার স্বাভাবিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুতর বাধার সৃষ্টি হয়। বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থেই প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি ও আবশ্যক একটি আইনি পদক্ষেপ।
তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সম্পূর্ণ সচেতন হতে হবে এবং নিজ উদ্যোগে পোস্টমর্টেম করানোর জন্য এগিয়ে আসতে হবে। পোস্টমর্টেম ব্যতিরেকে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গেলে প্রমাণের অভাবে আসামিপক্ষ খালাস পেয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ থেকে যায়। তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সঠিক ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইনি অনুমোদন এবং মরদেহ উত্তোলনের নিয়মাবলী
আইনসম্মত উপায়ে দাফনের বিষয়ে ব্যাখা প্রদান করতে গিয়ে তিনি আরও বিস্তারিত জানান যে, যদি কেউ বিশেষ কারণে পোস্টমর্টেম না করে দাফন সম্পাদন করতে চায়, তবে সেটির জন্য একটি নির্দিষ্ট সরকারি ও আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত রয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রগুলোতে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আনুষ্ঠানিক অনুমতি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। যদি সেই প্রক্রিয়া মেনে যথাযথভাবে দাফন সম্পন্ন করা হয়ে থাকে, তবে সেটি ভিন্ন বিষয়।
তবে তিনি কঠোরভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অপরাধের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে “যেকোনো সময়ে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করেও আইন অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করা সম্ভব।” এই উদ্যোগটি চূড়ান্তভাবে মামলার বাদীপক্ষ তথা ক্ষতিগ্রস্ত অভিভাবকদেরই নিতে হবে। সুষ্ঠু তদন্ত ও আলামত সংরক্ষণের জন্য এই আইনি ব্যবস্থা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ঘটনার পটভূমি ও তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, পবিত্র কোরবানির ঈদের ঠিক আগের দিন অত্যন্ত মর্মান্তিক এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকা ছয়টি শিশু হঠাৎ করে একযোগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে একে একে সকল শিশুই মৃত্যুবরণ করে। এই আকস্মিক ঘটনার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট ও প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে জটিলতা দেখা দেয়, কারণ চিকিৎসায় অবহেলা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে তা কেবল ময়নাতদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব ছিল।
সরকারি সূত্র এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এত অল্প বয়সের নবজাতকদের মরদেহের পোস্টমর্টেম করানোর বিষয়ে তাদের অভিভাবক বা মাতা-পিতা কেউই সম্মত হননি। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো ধরনের ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গিয়ে দাফন সম্পন্ন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার তাগিদ থেকে আইনগত প্রশ্নটি নতুন করে সামনে উঠে আসে।
#বাংলাদেশ #সংবাদ #আইন #স্বাস্থ্য