শিশু রামিসা হত্যা: দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি

রাজধানীর পল্লবীতে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অত্যন্ত নৃশংস ও বর্বরোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ এবং বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সাথে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। দেশের বিদ্যমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের জঘন্য অপরাধ রুখতে বিচারিক প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি এবং কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সংবেদনশীল বিষয়ে মানবাধিকার রক্ষা এবং অপরাধীদের কোনো ধরনের আইনি বা সামাজিক প্রশ্রয় না দেওয়ার বিষয়ে সর্বস্তরের নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে সোমবার রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রামিসার পিতা-মাতার সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রধান ব্যক্তিত্ব ডা. শফিকুর রহমান নিজের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচারে জাতীয় সংসদসহ সকল নীতি নির্ধারণী ফোরামে জোরালো ভূমিকা পালন করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

১৫ কর্মদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার আহ্বান ও প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশনে এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে উত্থাপন করা হবে। দেশের প্রতিটি কন্যাসন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ওই দিন শুধু রামিসার জন্য নয়, এ দেশের প্রতিটি মেয়ের অভিভাবক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমি রুখে দাঁড়াবো, ইনশাআল্লাহ।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশের সর্বোচ্চ শাসন প্রধান ভুক্তভোগী পরিবারের বাসভবনে সরাসরি গিয়ে আশ্বাস প্রদান করেছিলেন যে, মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে বিচার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সাধারণ মানুষ এখন দেখতে চায় এই গুরুত্বপূর্ণ ওয়াদা শতভাগ এবং দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না।

আইন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বিচার বিভাগ যদি পূর্ণ পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, তবে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে বিচার নিষ্পন্ন করা সম্পূর্ণ সম্ভব। নিম্ন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় দ্রুত কার্যকর করার উদ্দেশ্যে তা হাইকোর্টে প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এই সময় তিনি মানবতার বিজয়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান এবং আদালতের ভেতরে স্বঘোষিত কিংবা চিহ্নিত অপরাধীদের পক্ষে কোনো আইনি সহায়তায় আইনজীবীরা যেন অংশ না নেন, সেই মানবিক ও নৈতিক অনুরোধ পেশ করেন।

বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা

বিচার ব্যবস্থার নানা ত্রুটি ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিচারের নামে দীর্ঘায়িত সময়ক্ষেপণ ও অবিচার সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে বিনষ্ট করছে। বিচার বিভাগের ওপর জনগণের অনাস্থা তৈরির মূল কারণ হলো বিভিন্ন ধরনের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক চর্চা। এই সংস্কৃতি থেকে বিচারালয়কে পুরোপুরি বের হয়ে আসতে হবে। দেশকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা অতীব জরুরি। বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই একমাত্র পথ।

স্বীকৃত ও চিহ্নিত অপরাধীদের বিচার দীর্ঘায়িত করা মানে পরোক্ষভাবে তাদের সহযোগিতা করা এবং অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। তাই এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ নিয়ে কোনো ধরনের নোংরা রাজনীতি না করে দেশের মান-সম্মান রক্ষা এবং প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট হওয়া আমাদের সবার ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব। উক্ত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের নেতৃবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

#ন্যায়বিচার #বাংলাদেশ #আইনসংক্রান্ত #অপরাধ