প্রবাসী কার্ড চালুর মাধ্যমে সর্বাত্মক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের অনন্য সরকারি পরিকল্পনা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিদেশে কর্মরত এবং বিদেশগামী কর্মীদের সুবিধার্থে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, সরকারের রূপকল্প অনুযায়ী নতুন প্রস্তাবিত প্রবাসী কার্ড পদ্ধতি পুরোপুরি চালু হলে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য বিএমইটি (জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর বাধ্যতামূলক নিবন্ধন) কার্ডের আর কোনো আলাদা প্রয়োজন থাকবে না। রাজধানী ঢাকা-য় অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেনসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রবাসীদের বহুমুখী সেবাদানের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দ্রুতগতিতে প্রণয়ন করছে। “একটিমাত্র আধুনিক প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমেই প্রবাসী কর্মীরা যেন রাষ্ট্রের সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত সহজে ভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্য নিয়েই আমাদের মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।” প্রবাসীদের প্রদানযোগ্য সুবিধাসমূহ এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত করা না হলেও কারেন্সি সুবিধা, ব্যাংকিং পেমেন্ট গেটওয়ে সহজীকরণ এবং সহজে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্র তৈরি করা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি এই কার্ডে একটি বিশেষ ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং ট্র্যাকিং ব্যবস্থা যুক্ত থাকবে, যা প্রবাসীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
সিন্ডিকেটমুক্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনর্গঠন ও সরকারের সুদৃঢ় নীতি
মালয়েশিয়া-র শ্রমবাজার সংক্রান্ত জটিলতা ও সিন্ডিকেটের অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সরকারের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পালন করা হচ্ছে। শ্রমখাতে কোনো অনৈতিক চক্রকে সুযোগ দেওয়া হবে না। মন্ত্রী আশাবাদ প্রকাশ করে জানান, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন বা এক মাসের মধ্যে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে এক ইতিবাচক প্রস্তাবনা দেশের সামনে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।
নিজের প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা ও সততার অঙ্গীকার স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, “যদি আমি একটি পুরোপুরি সিন্ডিকেটমুক্ত ও স্বচ্ছ শ্রমবাজার বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের জন্য গড়ে তুলতে সক্ষম না হই, তবে আমি আনন্দের সাথে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াব। পুরো বিষয়টিকে আমি একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি।” তিনি জানান, প্রবাসী শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ রক্ষাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রবাসীদের ভূমিসেবা, চিকিৎসা সুবিধা ও কূটনৈতিক সমন্বয়
চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপাক্ষিক সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার বিষয়ে নতুন কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান যে নতুন চুক্তির বিষয়ে এই মুহূর্তে তার বিস্তারিত জানা নেই, তবে ইতিপূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ক্ষমতাসীন বিএনপি চালিত সরকার প্রবাসীদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রবাসী কার্ড প্রদর্শন করে প্রবাসীরা যাতে স্বদেশে অবস্থানকালে ভূমি সংক্রান্ত জরুরি সেবা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে পারেন, সে জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি দেশের হাসপাতালসমূহে উন্নত চিকিৎসা সেবা লাভের ক্ষেত্রেও প্রবাসীরা যাতে বিশেষ প্রাধান্য পান, সে জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন আনার জোরালো প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
#প্রবাসী_কল্যাণ #বাংলাদেশ #শ্রমবাজার #রেমিট্যান্স #প্রবাসী_কার্ড