আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বড় দুই দলের ইনসিকুরিটি: সাবেক উপদেষ্টার মন্তব্য
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ইস্যুতে দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান নিয়ে বিষদ মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে লীগ ইস্যুতে যা ঘটছে তা মূলত বড় দুই প্রধান দলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাহীনতা বা ইনসিকুরিটির ফসল। তার মতে, অতীতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে তরুণ প্রজন্ম রাজপথে নেমে লড়াই করেছে, প্রকৃত ঝুঁকিতে এখন তারাই রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষবার্তায় তিনি এই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও ইতিহাসের স্মৃতি
মাহফুজ আলম তার বক্তব্যে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক অতীত ও মনস্তাত্ত্বিক ভীতির কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি তাদের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলী ভুলতে পারছে না। অন্যদিকে, জামায়াত রয়েছে চরম আদর্শিক শত্রুতা ও সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায়, যা ৯০-এর দশকের যৌথ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে উৎসারিত। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর এই ভীতি বা স্মৃতির অধ্যায়ই বর্তমান অস্থিরতার মূল কারণ।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে তারা নিজেদের সুবিধাজনক বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে নেবে। অন্যদিকে জামায়াত তাদের কৌশলগত কারণে নিরব ও নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। ফলে যারা জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে, আসল সংটকটি মূলত তাদের জন্যই তৈরি হচ্ছে। এই সমীকরণ রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
নতুন প্রজন্মের করণীয় ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল
রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর না করে নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সামর্থ্য বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন এই সাবেক ছাত্রনেতা। তিনি আফসোস প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ ও সাময়িক প্রাপ্তি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। কিন্তু এই জাতির পাশাপাশি পুরো গ্লোবাল সাউথকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো শক্তি ও তাকদ তাদের রয়েছে। তাই নিজেদের মতাদর্শ, ফোরাম বা প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতারা তরুণদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে পরবর্তীতে বিপদে ঠেলে দিয়েছে, যা ৭০ এবং ৯০-এর দশকেও লক্ষ্য করা গেছে। তাই কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পারস্পরিক ব্যক্তি আক্রমণ ও গালিগালাজ বন্ধ করে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা কেবলা ঠিক রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
সংগঠন বিনির্মাণ ও ভবিষ্যৎ প্রতিরোধ
মাহফুজ আলম তার বক্তব্যের শেষে জোর দিয়ে বলেন যে, “আমরা নিশ্চিত মৃত্যু জেনে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে রাজপথ থেকে তাড়িয়েছি।” সেই সাহসের সাথে এখন প্রয়োজন সুসংগঠিত সাংগঠনিক রূপ এবং সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। রাজনৈতিক ঐক্য ও কৌশলগত পরিকল্পনা বজায় রাখতে পারলে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন কোনো রূপেই সম্ভব হবে না।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #মাহফুজ_আলম