পশুর হাটের বর্জ্য অপসারণ শেষে তেজগাঁওয়ে বিস্তৃত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তেজগাঁও পলিটেকনিক খেলার মাঠ ও তৎসংলগ্ন সড়ক বিভাজকে এক ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত কোরবানির পশুর হাটের জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ও বাঁশের অবকাঠামো সফলভাবে অপসারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরপরই এই ইতিবাচক পরিবেশ উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সম্মানিত প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত থেকে সরাসরি এই বিশেষ সবুজ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি সমগ্র রাজধানী নগরীকে দূষণমুক্ত, পরিচ্ছন্ন এবং বাসযোগ্য আধুনিক সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলার সংকল্প ব্যক্ত করেন। প্রশাসক জানান, পর্যায়ক্রমে উত্তর সিটির অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকার উপযুক্ত স্থানগুলোতে এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হবে।
মেট্রোরেল এলাকার পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে ডিএনসিসি প্রশাসক বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পশুর হাটের কারণে উত্তরা এলাকার মেট্রোরেল সংলগ্ন পরিবেশ ও রাস্তার দুপাশের গাছপালার যে সাময়িক আংশিক ক্ষতি সাধিত হয়েছিল, তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নতুন করে বিপুলসংখ্যক দৃষ্টিনন্দন ও দেশীয় গাছ রোপণ করা হয়েছে। এর ফলে সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ পূর্বের চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর, প্রাণবন্ত, সবুজ ও মনোরম রূপ ধারণ করেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার এবং সিটি করপোরেশনের এসব প্রশংসনীয় ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় একটি বিশেষ মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা ভুয়া ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়েছে।” তবে সচেতন নাগরিক সমাজ বাস্তব চিত্র অনুধাবন করতে পেরেছেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হাট পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ইজারাদারদের প্রতি কঠোর নির্দেশ
ঈদের উৎসব পরবর্তী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে প্রশাসক বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঈদ পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রমের পর থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত সকল ইজারাকৃত পশুর হাট এলাকা থেকে অবশিষ্ট ময়লা-আবর্জনা এবং হাটে ব্যবহৃত বাঁশের কাঠামোগুলো সরিয়ে নেওয়ার অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং পরিদর্শনের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছেন যে ইতোমধ্যে অধিকাংশ হাটের বর্জ্য সম্পূর্ণভাবে নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট দু-একটি হাটে যে সামান্য আবর্জনা রয়ে গেছে, সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলার কাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে। তিনি স্পষ্ট সতর্ক করে জানান, যদি কোনো হাটের ইজারাদার পরিচ্ছন্নতার কাজে গাফিলতি করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য, গণমাধ্যমের সহায়তা ও পরিবেশ সুরক্ষার অঙ্গীকার
একটি তিলোত্তমা পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করে প্রশাসক বলেন, পলিটেকনিক মাঠের এই বৃক্ষরোপণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা মাত্র। নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। তিনি এই ইতিবাচক উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য পশুর হাটের ইজারাদার ও স্থানীয় এলাকাবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সাথে সময়মতো তথ্য সরবরাহ ও সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিদিনের নিয়মিত গৃহস্থালি আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রমও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
#পরিবেশ #ঢাকা #ডিএনসিসি #বৃক্ষরোপণ #বর্জ্য_অপসারণ