নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নতুন বাজেটের আশাবাদ: প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আগামী জাতীয় বাজেটে জ্বালানি খাত নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে শুভ সংবাদ পাওয়ার ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত আশাবাদী এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদ্যুতের দাম ও কমিশনের এখতিয়ার
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলেন, “বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বার্ক) এখতিয়ারভুক্ত, এটি সরাসরি মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়।” প্রপোজাল বা প্রস্তাব অনেক থাকলেও শেষ পর্যন্ত গণশুনানির মাধ্যমে সব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, বার্কের পূর্বে খর্ব করা ক্ষমতা জাতীয় সংসদে আইনের মাধ্যমে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই এই মুহূর্তে কমিশনের সাথে নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও জ্বালানি তেলের মূল্য
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও দেশে দাম বাড়ানোর বিষয়ে ওঠা সমালোচনার প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রী সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনার দিকটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যখন দাম শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছিল, তখনও সরকার হুট করে তেলের দাম বৃদ্ধি না করে গ্রাহকদের সুরক্ষায় ভর্তুকি ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা বজায় রেখেছিল। সরকারের এই নীতি ও বাজেট কাঠামোর একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া রয়েছে।
স্বাবলম্বী হওয়ার পরিকল্পনা ও ভর্তুকি কমানোর কৌশল
জ্বালানি খাতে ভর্তুকি তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বাবলম্বী হতে চাচ্ছে। “উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনার কারণে ভর্তুকির প্রশ্নটি আসে; ফলে আমরা যদি এই উচ্চ ব্যয়ের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোকে ধীরে ধীরে রিনিউয়েবল এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে পারি, তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে যাবে।” এতে একদিকে যেমন সরকারের ভর্তুকির চাপ কমবে, অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকদের সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
অবকাঠামো উন্নয়ন ও দুর্যোগকালীন বিদ্যুৎ সরবরাহ
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে এফএসআরইউ (FSRU) স্থাপনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা দুটি ইউনিটের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম এফএসআরইউ স্থাপনের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
ঈদ পরবর্তী বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কিছুটা অস্বস্তি প্রকাশ করেন। দেশের বেশিরভাগ মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পেলেও ঈদের আগে ও পরে হওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পল্লী বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লাইন মেরামতে কিছুটা সময় লাগায় গ্রাহক দুর্ভোগ হয়েছে, যা কাম্য ছিল না। সরকার এই অবকাঠামোগত সমস্যা কাটিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে কাজ করছে।
#বিদ্যুৎ #জ্বালানি #বাজেট #বাংলাদেশ