বিএনপি কখনো বেকারত্ব তৈরি করেনি, কর্মসংস্থান বাড়িয়েছে: রুহুল কবির রিজভী
নয়াপল্টনে আয়োজিত এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি-র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন যে, তাদের দল কখনো দেশে বেকারত্ব সৃষ্টি করেনি, বরং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কাল থেকেই দলটির সরকার দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে কর্মসংস্থান তৈরিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলে তিনি জানান।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান, কৃষি ও পোশাক খাতে নারীদের অবদান
রিজভী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, “বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বহু দেশে প্রায় কোটিরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন এবং এই বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি রচিত হয়েছিল শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় নানা প্রণোদনা এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে দেশে অসংখ্য তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টস শিল্পের কথা স্মরণ করে এই জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা বলেন, এ খাতে বিপুল সংখ্যক নারীর ব্যাপক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অনবদ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। আজ এই খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের অর্ধেকেরও বেশি নারী, যা মূলত বাংলাদেশের নারী সমাজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি উজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও হকার পুনর্বাসন নীতি
দেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বের অধীনে গঠিত আগামী দিনের বাংলাদেশে কেউ বেকার থাকবে না। সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ ও বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে কর্মের ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা হবে। একই সাথে তিনি বর্তমান সরকারের হকার উচ্ছেদ নীতি পরিহার করে পুনর্বাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, কারণ প্রতিটি হকারের উপার্জনের সাথে একটি করে পরিবারের জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, দুস্থ, অবহেলিত ও অসহায় মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প চালু করেছে, যেখানে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কৌশলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সেচ সুবিধার জন্য ১ হাজার ৬০০ মাইল খাল খনন করেছিলেন, যা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং মৎস্য চাষের মাধ্যমে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিল।
অর্থনীতি পুনর্গঠন ও অতীত শাসনের সমালোচনা
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রিজভী বিগত সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গত ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এবং উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।” তৎকালীন রাজনৈতিক প্রধান এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে তিনি গুরুতর দাবি তোলেন। উক্ত আলোচনা সভায় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #অর্থনীতি #কর্মসংস্থান