দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বাধাগ্রস্ত: সংসদে ৩০০ বিধি অনুযায়ী বিবৃতির দাবি

জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সংসদ সদস্য সাইফুল আলম দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানকে ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি এই বিষয়ে ৩০০ বিধিতে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানান। যথাযথ কূটনৈতিক তথ্য সরবরাহ করার পরেও কেন তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে আইনপ্রণেতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টার অপেক্ষা ও বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন

সংসদ সদস্য সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় জানান, গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা যথাযথ কূটনৈতিক পত্র ও নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর প্রাথমিক পর্যায়ে তাকে প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানায় বিমানবন্দরে কর্মরত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এমন বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর তিনি সফর বাতিলের চরম সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি সেই সফরে আর এগিয়ে না গিয়ে সম্মানজনকভাবে বাংলাদেশে ফেরত আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

কূটনৈতিক ব্যর্থতার প্রশ্ন ও সরকারের কাছে ব্যাখ্যার দাবি

সাইফুল আলম এই ঘটনার পেছনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো কূটনৈতিক ব্যর্থতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে, একজন উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা বিদেশে গিয়ে এই ধরনের অনভিপ্রেত হয়রানির শিকার হওয়া চরম দুর্ভাগ্যজনক। আইনপ্রণেতা জোরালোভাবে বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধির অধীনে একটি স্পষ্ট বিবৃতি দাবি করছি, যেখানে বলা থাকবে এতে কোনো কূটনৈতিক ত্রুটি ছিল কি না এবং পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” তিনি জাতীয় স্বার্থে বিষয়টি দ্রুত স্পষ্ট করার ওপর জোর দেন।

স্পিকারের পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ

আইনপ্রণেতার এই উত্থাপিত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ রুলিং প্রদান করেন। তিনি জানান, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। স্পিকার স্পষ্টভাবে বলেন, “বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হলে যথাযথ নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট নোটিশ জমা দিতে হবে।” নোটিশ জমা দেওয়া হলে তা যথাযথ নিয়ম অনুসারে সংসদে আলোচনার সুযোগ পাবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। সরকারের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়।

#রাজনীতি #সংসদ #বাংলাদেশ #কূটনীতি