সারাদেশে বিক্ষোভের ডাক দিল এনসিপি: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন

সাবেক বিবাদী শাসকদল আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনকালে সংঘটিত চরম অন্যায়, সর্বপ্রকার গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মানবতাবিরোধী গণহত্যার সঠিক ও নিরপেক্ষ বিচারের জোর দাবিতে সারাদেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগর এলাকায় তীব্র প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে নবগঠিত রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। সামাজিক বিচার প্রতিষ্ঠা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের এই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা ও মহানগরে একযোগে কর্মসূচির রূপরেখা

দলটির নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সারাদেশের সকল স্থানীয় ও আঞ্চলিক শাখা ইউনিটকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ঘোষিত নির্দেশনা মোতাবেক, আগামী মঙ্গলবার ঠিক বিকেল ৫:০০ ঘটিকায় দেশের সকল জেলা সদর এবং মেট্রোপলিটন শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে একযোগে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। স্বৈরাচারী আমলের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাবলী উন্মোচন এবং জড়িত সকল দোষী ব্যক্তিদের অনতিবিলম্বে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে কঠোর বিচারের মুখোমুখি করার লক্ষ্যে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আহ্বান জানানো হয়েছে। এই রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

নাশকতা রুখতে ছয় জেলায় বিশেষ সেনাটহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

অন্যদিকে, সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা রোধ এবং জনজীবনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শতভাগ শান্ত রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক পর্যায় থেকে অত্যন্ত কঠোর ও সতর্কতামূলক নিরাপত্তা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। सरकारों উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেশের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ছয়টি জেলায় সামরিক বাহিনী মোতায়েনের সুনির্দিষ্ট আদেশ কার্যকর করা হচ্ছে। যেসব জেলায় সেনাসদস্যদের বিশেষ দায়িত্বে নিযুক্ত করা হচ্ছে সেগুলো হলো দেশের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র ঢাকা, শিল্প নগরী গাজীপুর, নদীবন্দর এলাকা নারায়ণগঞ্জ, মধ্যাঞ্চলের কেন্দ্রস্থল ফরিদপুর, দক্ষিণাঞ্চলের জেলা গোপালগঞ্জ এবং সমুদ্রবন্দর পরিবেষ্টিত বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সরকারের কঠোর নজরদারি

সরকারের নীতি নির্ধারকদের সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা কিংবা কোনো ধরনের অরাজক ঘটনা ঘটানোর চক্রান্ত হতে পারে। এই জাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করতেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজনৈতিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আগামী ২২ জুন থেকে শুরু হয়ে এই বিশেষ ব্যবস্থা ৩০ জুন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর রাখা হবে। সেনা বাহিনীর উপস্থিতিতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে দমন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটেছিল। ওই সময়কালীন ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা দমন ও দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশজুড়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হলে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল থেকে খুব ধীর গতিতে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহারের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন কোনো অপতৎপরতা সামাল দিতে পুনরায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #আইনশৃঙ্খলা #এনসিপি #প্রতিবাদ #সংবাদ