পদ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্ষেপ প্রকাশ যুবদল নেতার
লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদল-এর নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক স্থানীয় নেতা। লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদল-এর সাবেক আহ্বায়ক কমিটির ৪৬ নম্বর সদস্য সুমন চৌধুরী এই লাইভটি করেন। লাইভ চলাকালে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের জন্য নিজের নানা ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, ১৭ বছর ধরে সরকারবিরোধী নানা আন্দোলন ও রাজপথের কঠিন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং সীমাহীন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগের বিবরণ ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বিচার দাবি
সুমন চৌধুরী দাবি করেন যে, তিনি গত ১৭ বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদল-এর রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। হরতাল, অবরোধ এবং রাজপথের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচিতে তিনি সর্বদা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার ও হয়রানির ভয়ে দীর্ঘ সময় নিজের বাড়িতে ঘুমানোর সুযোগ পাননি, যার ফলে তাকে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বাদ পড়ায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি দলের হাইকমান্ড, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে এই সিদ্ধান্তের বিচার চেয়েছেন।
তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, “আমার বিরুদ্ধে যদি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা প্রকাশ্যে প্রমাণ করা হোক। যদি আমার অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “দলের জন্য জীবনের মূল্যবান সময় দিয়েছি, রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছি এবং অগণিত ত্যাগ স্বীকার করেছি। অথচ কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা আমার সঙ্গে চরম অবিচার।” আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং রাজনৈতিক কারণে তাকেও নানা সময়ে অপমান ও অপদস্থ হতে হয়েছিল।
নেতৃত্বের বক্তব্য ও সাংগঠনিক অবস্থান
এই বিষয়ে সদ্য ঘোষিত জেলা যুবদল-এর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রাশিদুল হাসান লিংকনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে, সুমন চৌধুরী নিঃসন্দেহে দলের একজন কঠোর পরিশ্রমী ও ত্যাগী নেতা। কী কারণে বা কোন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তা দলের অভ্যন্তরীণভাবে ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া তিনি জানান যে, রামগঞ্জ পৌর কমিটিতে সুমন চৌধুরীকে যোগ্য সম্মান দিয়ে রাখা হয়েছে এবং উদ্ভূত বিষয়ের দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে অনুমোদন দেওয়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদল-এর ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। নতুন এই কমিটিতে আব্দুল আলীম হুমায়ুনকে সভাপতি এবং সৈয়দ রাশিদুল হাসান লিংকনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন কমিটিতে সুমন চৌধুরীর নাম না থাকায় স্থানীয় রাজনীতিতে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
#রাজনীতি #যুবদল #লক্ষ্মীপুর #সংবাদ