শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন: তাঁতীদলের আলোচনা ও দোয়া
মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল। মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় ঢাকা-র তোপখানা রোডস্থ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি-র বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম টিপু। স্মরণসভায় বক্তারা শহীদ জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্ব, দেশপ্রেম এবং জাতীয় উন্নয়নে তার অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
স্বাধীনতার ঘোষণা ও উন্নয়নমুখী বিপ্লব
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী রওনকুল ইসলাম টিপু বলেন, “১৯৭১ সালে সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্স অধিনায়ক হিসেবে মেজর জিয়ার মধ্যেই আধুনিক বাংলাদেশের মূল ভাবনা নিহিত ছিল।” তিনি উল্লেখ করেন, দেশের চরম সংকটময় মুহূর্তে মেজর থাকাকালীন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করে একটি স্বাধীন দেশ, জাতীয় পতাকা ও ভূখণ্ড উপহার দেন। টিপু আরও জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তিনি জনশক্তি রপ্তানি সূচনা, গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠা এবং খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে এক অভূতপূর্ব কৃষি বিপ্লব সম্পাদন করেন। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক অধিকার পুনর্প্রতিষ্ঠায় তার অবদান চিরস্মরণীয়।
গণতন্ত্র রক্ষা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপরেখা
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তাঁতীদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা সেই গণতান্ত্রিক কাঠামোকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষ আজ নিরাপদ। জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও আত্মার মাগফিরাত কামনা
সভায় বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদ জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, মুক্তিযুদ্ধ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার অসামান্য ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। আলোচনা পর্বের শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে দেশের সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণ কামনা করা হয়। জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের চমৎকার সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #সংবাদ