ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান: বিএনপির প্রবীণ নেতার দাবি
ঢাকা-র জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি-র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত মান-অভিমান কিংবা কোনো কিছু পাওয়া না-পাওয়ার হিসাবের চেয়ে দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কৃষক ও শ্রমিকের পাশে দাঁড়ানো, বেকারত্ব দূর করা এবং সর্বোপরি আইনশৃঙ্খলা সুসংহত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও মজবুত করা অত্যন্ত জরুরি।
নেতৃত্ব জোরদার, জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক অপপ্রচার মোকাবিলা
বিএনপি-র জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, বর্তমান সময়টি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ যখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অত্যন্ত শক্তিশালী করতে হবে। “ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা কার কী প্রাপ্তি হলো সে বিষয়টি বড় নয়, সবকিছুর আগে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য বাংলাদেশ।” দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণমানুষের স্বার্থ সুরক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা যাবে না বলে তিনি সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন।
আলোচনা সভায় শামসুজ্জামান দুদু অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট চক্রান্তকারী মহল বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করতে সরকার, বিএনপি এবং দলের মূলধারার শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ের সকল নেতাকর্মীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, সার্বিক রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখতে পারলেই কেবল এই সকল কুৎসিত অপপ্রচার সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
ঐতিহাসিক ঘটনা, বিচার বিভাগীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্দোলন সংগ্রাম
২০১১ সালে জাতীয় সংসদের সামনে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর সংগঠিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, প্রকাশ্যে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ওপর এ ধরনের বর্বর হামলা চালানো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। এই চিহ্নিত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশের গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ ঘটার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি অতীতে বিএনপি-র দূরযোগপূর্ণ সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন যে, পূর্বে সভা-সমাবেশ করা অত্যন্ত কঠিন এবং বিপজ্জনক ছিল। সমাবেশ শেষে কে নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন আর কাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হবে, এমন অনিশ্চয়তা এবং আতঙ্কের মধ্যেও নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছেন।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও দেশ গড়ার ভিশন
শামসুজ্জামান দুদু তার বক্তব্যের শেষ অংশে জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশ-কে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে হলে সমাজের অবহেলিত গরিব ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। “কৃষক, শ্রমিক এবং তরুণ বেকার সমাজের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।” একই সঙ্গে দেশে কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। দেশের উন্নয়ন, পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব মতভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।
উক্ত স্মরণ সভায় অন্যান্য বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্য শাম্মী আক্তার, আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #গণতন্ত্র