বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপশাসনের অভিযোগ জামায়াত আমীরের
সিলেট নগরীতে আয়োজিত এক বিশাল বিভাগীয় জনসমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান সরকার কার্যত পদচ্যুত আওয়ামী লীগ শাসনের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে এবং দেশের সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই দ্বিতীয়বার কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মেনে নেবে না।
জনআকাঙ্ক্ষা, গণভোট ও রাজনৈতিক সংস্কারের জোর দাবি
সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বিশাল সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী হাসিনাকে দেশ থেকে উৎখাত করেছি। এখন যদি নতুন করে কেউ দেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম দিতে চায়, তবে দেশের সচেতন জনগণ আপনাদেরকেও একইভাবে ক্ষমতাচ্যুত করবে।” তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান প্রশাসন নানা স্তরে দলীয়করণ এবং দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে শুরু করেছে, যা কখনোই কাম্য নয়।
এই মহাসমাবেশের মূল লক্ষ্য ছিল গণভোটের ঐতিহাসিক রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, সংবিধানে প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কার আনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার সম্পন্ন করা। ড. শফিকুর রহমান অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, দেশে সম্পূর্ণভাবে ফ্যাসিবাদের অবসান, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন এবং অপশাসনের মূলউৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলন ও রাজপথের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। তিনি দেশবাসীকেেক আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
সিলেটের আঞ্চলিক উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার চিত্র
সমাবেশে বক্তব্যে জামায়াত প্রধান সিলেট অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার কথা গভীরভাবে তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর সুযোগ্য নেতৃত্বে এই অঞ্চলের সাহসী মানুষ অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছিল। অথচ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়া সত্ত্বেও এখানকার ন্যায্য অধিকারসমূহ বছরের পর বছর ধরে উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
তিনি অবিলম্বে এম. এ. জি. ওসমানী বিমানবন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করার জোর দাবি জানান। একইসাথে তিনি জনগুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল ও শোচনীয় অবস্থার কঠোর সমালোচনা করে অতি দ্রুত এর নির্মাণকাজ শেষ করার তাগিদ দেন। এছাড়া এই অঞ্চলে একটি বিশ্বমানের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং প্রস্তাবিত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানান তিনি।
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের অঙ্গীকার ও রাজনৈতিক জোটের অবস্থান
ড. শফিকুর রহমান তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন যে, জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের রক্ত এবং দেশের ১৮ কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের সাথে তারা কখনোই বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। গণমানুষের রায় ও স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও পিছপা হবেন না।
উক্ত বিভাগীয় জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র চেয়ারম্যান অলি আহমদ। সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর আমীর মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সিলেট #জামায়াত #সংবাদ