সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা: চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা

সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী একটি বিশেষ গাড়িবহরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে গাড়িবহরের একটি যানবাহনের পেছনের গ্লাস সম্পূর্ণ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। তবে এই মারাত্মক হামলার ঘটনায় অলৌকিকভাবে কেউ গুরুতর আহত হননি। স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যানুযায়ী, পৌরসভার অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে নেতারা যখন পরবর্তী গন্তব্যের দিকে রওনা হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই একদল দুর্বৃত্ত অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাদের গাড়িবহরের ওপর চড়াও হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সঙ্গে বৈঠক ও পরবর্তী ঘটনা

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই Mass Uprising-এ নিহত বীর শহীদদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ ও মতবিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপি-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গোলাপগঞ্জ পৌর মিলনায়তনে একত্রিত হন। অনুষ্ঠান সফলভাবে শেষ করে দুপুর পৌনে তিনটার দিকে নেতারা যখন কানাইঘাট উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন, ঠিক তখনই পৌরসভার প্রধান ফটকের অদূরে নূর ম্যানশন-এর সামনে পৌঁছালে বহরের ওপর একদল সহিংস যুবক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। “হঠাৎ করেই কয়েকজন উন্মত্ত যুবক বহরের সামনে এসে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে এবং ইট ছিটকাতে শুরু করে,” জানান স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

অভিযোগ উঠেছে যে, বহরটি আসার আগেই স্থানীয় গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী এলাকায় বিপুল সংখ্যক যুবক জড়ো হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জেসিডি)-র স্থানীয় কর্মীরা এনসিপি বিরোধী তীব্র নানা ভুয়া ভুয়া স্লোগান তুলে পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলে। অডিটোরিয়াম থেকে বহর বের হওয়ার সময় এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমে সরাসরি হামলার রূপ নেয়। সারজিস আলম পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, হামলাকারীরা মূলত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের সক্রিয় নেতাকর্মী।

ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংঘাত, পুলিশি পদক্ষেপ ও সার্বিক প্রতিক্রিয়া

সংঘাতময় এই ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা উত্তেজিত জনতা ও হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং এনসিপি নেতাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে নেতারা কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করতে সমর্থ হয়েছেন। পুলিশি পাহারায় নেতারা তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছান।

উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে হবিগঞ্জ জেলায় মার্চ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে একইভাবে এনসিপি নেত্রীবৃন্দ হামলার শিকার হয়েছিলেন। সেই ঘটনার প্রতিবাদে রাজনৈতিক দলটি নতুন প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও মৌলভীবাজার-এর শ্রীমঙ্গল এবং হবিগঞ্জ-এর বাহুবল এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকায় বহরটি বারবার পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। ধারাবাহিক এসব হামলায় চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #সিলেট #এনসিপি