হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির বহর একাধিকবার বাধাগ্রস্ত: রাজপথে নেতাদের প্রতিবাদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকায় বাধা দেওয়ার পর আবারও হবিগঞ্জের মিরপুর নামক স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র গাড়ি বহর আটকে দিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন ধারাবাহিক পদক্ষেপে এলাকায় এক থমথমে ও চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করার পর এই বাধা প্রদান ও গ্রেপ্তারের মতো পরিস্থিতির সূচনা হয়।

সড়কে পুলিশের ব্যারিকেড ও দফায় দফায় অবস্থান

সরেজমিনে জানা যায়, বিকেলের দিকে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার পরই প্রথম দফায় শ্রীমঙ্গলে দলীয় নেতাকর্মীদের থামিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রাথমিক বাধা অতিক্রম করে প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা পুনরায় যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু মিরপুর এলাকায় পৌঁছামাত্র আবারও বিশাল ব্যারিকেড তৈরি করে তাদের পথরুদ্ধ করা হয়। কোনো উপায় না পেয়ে রাজপথেই বসে পড়েন শীর্ষ নেতারা এবং অন্যায্য বাধা সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। আলোচনার একপর্যায়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমাদের চলাচলের পথ কেন বন্ধ করা হয়েছে? আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাই না, কেবল হবিগঞ্জে গিয়ে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে মামলা দায়ের করতে চাই।” পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ব্যারিকেড বলবৎ রাখা হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র রূপ ধারণ করে।

নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ও আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা

পরবর্তীতে এক জরুরি প্রতিক্রিয়ায় এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট স্থানে যাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকেও তাদের পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্তব্ধ করার জন্য সরকার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি জানান কেন্দ্রীয় নেতারা। এই সফরে এনসিপি আহ্বায়ক Nahid Islam, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান সমন্বয়ক সারজিস আলম এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকাটিতে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের মুখোমুখি অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এমন নিরাপত্তামূলক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে এনসিপি সমর্থকরা বলছেন, আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সঠিক মাধ্যমে সুবিচারের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনিক এই বাঁধার প্রতিবাদে আগামী দিনে তারা সারাদেশে কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন। প্রশাসনের এহেন সিদ্ধান্ত স্থানীয় সুশীল সমাজ ও আইনজীবীদের মধ্যেও নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জাতীয়_নাগরিক_পার্টি #হবিগঞ্জ