হবিগঞ্জে এনসিপি ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ: দুই কেন্দ্রীয় নেতা ব্যাংকে অবরুদ্ধ

হবিগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে এক রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নতুন আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জসিডি)-এর নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের অত্যন্ত ব্যস্ত থানা মোড় এলাকায় এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হন।

ব্যাংক শাখায় অবরুদ্ধ শীর্ষ নেতারা

সংঘর্ষের চরম মুহূর্তে একটি নজিরবিহীন ঘটনার সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার এক পর্যায়ে এনসিপি-র অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এবং সারজিস আলম জীবন রক্ষার্থে পাশের একটি সোনালী ব্যাংক শাখায় গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় তারা ব্যাংকের ভেতরের কক্ষে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এই সময় বাইরে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং উভয় পক্ষের সমর্থকরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত ছিল। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হয়।

পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও অভিযোগের বিবরণ

ঘটনার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এনসিপি-র জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, তাদের কেন্দ্রীয় দুই শীর্ষ নেতা সহ অন্য সহকর্মীরা সার্কিট হাউসের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ছাত্রদলের কর্মীরা তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃত্ব। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন এক বিবৃতিতে দাবি করেন যে, এই ঘটনার সাথে তাদের সংগঠনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না।

তিনি দাবি করেন, এনসিপি নেতাদের কতিপয় শালীনতাহীন ও আপত্তিকর বক্তব্যের কারণে স্থানীয় “উত্তেজিত সাধারণ জনতা” তাদের ধাওয়া করেছিল। রিংগন বলেন, “হবিগঞ্জ শহরে এসে কেউ যদি শালীনতাহীন কথা বলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তবে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।” তিনি আরও পুনর্ব্যক্ত করেন যে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন না। অন্যদিকে, সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

#রাজনীতি #হবিগঞ্জ #সংঘর্ষ #সংবাদ