হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ: আহত অন্তত ২০

হবিগঞ্জ জেলা শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় এনসিপি-র উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম এবং হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মুবিনসহ অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে এনসিপি নেতাদের বহনকারী একটি যানবাহন ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনার সূচনা ও থানামোড় এলাকার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের থানামোড় এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এনসিপি-র ‘জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেতারা দিনব্যাপী বিভিন্ন পথসভা শেষে জেলা শহরের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হাসপাতাল এলাকায় একদল যুবক তাদের ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে, যা একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।

পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করলে এনসিপি-র প্রধান সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী এবং সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় একটি সোনালী ব্যাংক শাখায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেয়।

আহতদের অবস্থা ও এনসিপি নেতাদের গুরুতর অভিযোগ

এনসিপি জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন যে, ছাত্রদল কর্মীরা অতর্কিত ও সম্পূর্ণ অসংবেদনশীলভাবে তাদের ওপর এই হামলা চালিয়েছে। “আমরা এই বর্বরোচিত আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি,” বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংগঠনটির সিনিয়র নেতা সারজিস আলম জানান, হামলার হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জেলার সদস্য সচিবের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং অন্য এক কর্মীর চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তিনি আরও দাবি করেন, “আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ও আমাদের ওপর পুনারায় হামলা চালানো হয়।”

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার

অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগন রাজনৈতিক এই হামলার যাবতীয় দায় অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই অপ্রীতিকর ঘটনায় ছাত্রদল-এর কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন না।

রিংগনের মতে, বহিরাগত নেতারা শান্ত শহর হবিগঞ্জে এসে আপত্তিকর মন্তব্য করে পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছিলেন। “উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে বিক্ষুব্ধ সাধারণ জনগণ তাদের ধাওয়া দিয়েছে, এর দায় তাদের নিজেদেরই নিতে হবে,” বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

#রাজনীতি #হবিগঞ্জ #সংঘর্ষ #বাংলাদেশ