হবিগঞ্জে ছাত্রদল কর্মীদের হামলায় ছাত্রনেতা আলিফ আহত: গুরুতর অভিযোগ সারজিস আলমের

হবিগঞ্জে ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর কর্মীদের কথিত হামলায় আহত ১৮ বছর বয়সী তরুণ আলিফকে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু নিতে দেওয়া হয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম। এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অভিযোগ করেন যে, হামলায় গুরুতর আহত আলিফ তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সারজিস জানান, এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, বরং এটি একটি মারাত্মক হামলা ও প্রাথমিক চিকিৎসা বঞ্চনার জঘন্য দৃষ্টান্ত।

ঘটনার বিবরণ ও হাসপাতালে দ্বিতীয় দফা হামলার অভিযোগ

সারজিস আলমের দেওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ছাত্রদল-এর একদল কর্মী ও সমর্থক লোহার রড দিয়ে আলিফের চোখের ওপর আঘাত হানে। আঘাতের পরপরই আলিফ রক্তে ভেসে যাচ্ছিলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় স্থানীয় সহকর্মীরা দ্রুত তাকে নিকটস্থ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, “হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে পৌঁছানো মাত্রই পূর্বের আক্রমণকারীরা পুনরায় তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।” হামলাকারীদের ভয়াবহ বাধার কারণে আহত তরুণকে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়।

জরুরি স্থানান্তর এবং বর্তমান শারীরিক অবস্থা

পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত রাজনৈতিক সহকর্মীরা বাধ্য হয়ে আহত তরুণকে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর দায়িত্বরত চিকিৎসকরা আশঙ্কাজনক তথ্য জানান। সারজিস আলম ডাক্তারের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন, “আঘাতের తీవ్రতার কারণে আলিফ এক চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছেন।” এর পর তাকে অনতিবিলম্বে আরও উন্নত জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তরের জোর পরামর্শ দিয়েছেন সেখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকমণ্ডলী।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় উদ্বেগ

এই ন্যাক্কারজনক হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে একজন তরুণ উদীয়মান কর্মীর ওপর এমন নৃশংস হামলা এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। একই সাথে এই ঘটনায় অভিযুক্ত রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে করে সত্য ঘটনা সামনে আসে এবং রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান ঘটে।

এদিকে আহত আলিফের পরিবার এবং সহকর্মীরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন এবং ঢাকায় তার আসন্ন জটিল অস্ত্রোপচারের সফলতা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলে তার পরবর্তী শারীরিক পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে। সমগ্র দেশবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও রাজনীতিতে সকল প্রকার সহিংস আচরণের কঠোর অবসান দাবি করছেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #হবিগঞ্জ #সংবাদ