জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল সোমবার সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেছে। এই বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস, জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। আইপিইউ মহাসচিবও বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সংসদীয় ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের জনগণের গণতন্ত্রের প্রতি আকাঙ্ক্ষার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ দেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য বারবার জীবন উৎসর্গ করেছে। স্পিকার আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জনগণ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অধিকার আদায়ে আত্মোৎসর্গ করতে কুণ্ঠিত হয়নি। তিনি জানান, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই স্বৈরাচারী শাসনকে সমর্থন করেনি।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথ ও নির্বাচন
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথচলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভ হলেও স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হলেও গণতন্ত্র অধরাই রয়ে গিয়েছিল। স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এ দেশে গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তিনি জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও দেশের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বৈঠকে স্পিকার ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলোকে প্রহসনের নির্বাচন হিসেবে মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছে ও দেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করা হয়েছে। স্পিকার আরও বলেন, এই ধারাবাহিকতার পরিণতি হিসেবে ২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার এক গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বৈরাচারের অবসান ঘটে। তিনি সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে এ দেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করেন।
আইপিইউ মহাসচিবের পর্যবেক্ষণ
আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এ দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়েছে। মহাসচিব বিশ্বাস করেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সংশোধনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা মুক্ত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও গণতান্ত্রিক সংসদ প্রতিষ্ঠা বাস্তবায়ন সম্ভব।
এই সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ও আইপিইউ প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংসদীয় ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে।