শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন যে ২০২৭ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ নেই। যদিও একই বছরের মাধ্যমিক (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে, তাই আপাতত পরীক্ষা পেছানোর কোনো প্রয়োজন দেখছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ নেই। আপাতত আমরা কোনো কারণ দেখছি না।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, “যদি না কোনো প্রাকৃতিক সমস্যার…। কারণ, তাদের (পরীক্ষার্থীদের) মোটামুটি দেড় বছর আগেই আমরা সময়সূচি জানিয়েছি, সুতরাং তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ওপর আস্থা প্রকাশ করেন এবং জানান যে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার সময়সূচি: ঘোষণা ও পরিবর্তন

এর আগে গত মে মাসে শিক্ষামন্ত্রী সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসির সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিলেন। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর সম্ভাব্য সময়সূচি সাংবাদিকদের দেওয়া হয়। সেই সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ওই বছরের ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। আর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৬ জুন শুরু হয়ে ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলার কথা নির্ধারিত ছিল।

তবে, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর এবং অভিভাবকদের মতামতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি নেওয়ার পূর্ব পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই পরীক্ষা আগামী বছরের ১৪ মার্চ শুরু হবে। এই পরিবর্তনের ফলে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে এবং ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে পরীক্ষার তারিখের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষাপট

সোমবারের এই সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়ার সাম্প্রতিক চীন সফর সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো। তিন দিনের এই সফরে তাঁরা কারিগরি শিক্ষা নিয়ে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। এই সফরের অভিজ্ঞতা ও অর্জিত বিষয়াদি তুলে ধরার জন্যই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বক্তব্য রাখেন। তাঁরা চীন সফরের বিভিন্ন দিক এবং কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। সামগ্রিকভাবে, শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা ২০২৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে যে তাদের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।