খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত: রাজপথ থেকে সংসদীয় রাজনীতির স্মরণীয় ইতিহাস
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ও আপসহীন নেত্রী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি-র সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী সারা দেশে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই নেত্রীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও রাজনৈতিক উত্থান
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ব্যাপকভাবে বিকশিত হয় তৎকালীন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময়। তিনি নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার অটল ও আপসহীন নেতৃত্বের মুখে ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হয় এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশ-এর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে পুনরায় সরকার প্রধান হিসেবে দেশের সেবা করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতার ভেতরে ও বাইরে—উভয় সময়ই তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। নানা রাজনৈতিক চাপ, মামলা-মোকদ্দমা এবং কারাবরণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনোই নিজ রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। এ কারণেই নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
ঐক্য ও রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক নানা প্রতিকূলতা এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে শেষ জীবনে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সাময়িক দূরে থাকতে হলেও তিনি ছিলেন দলের ঐক্য ও সাহসের মূল ভিত্তি। নয়াপল্টন-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “তিনি হিমালয়ের মতো মাথা উঁচু করে সব প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে কখনো পিছু হটেননি।” তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগ দেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে চিরকাল অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।
সারাদেশে স্মারক কর্মসূচি পালন
খালেদা জিয়ার এই ঐতিহাসিক জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় কার্যালয়ে এবং মসজিদে বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এ স্মারক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দলের কর্মী ও সমর্থকরা একজন প্রবীণ নেত্রীর সংগ্রামময় জীবন, সংসদীয় রাজনীতির অবদান এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার অদম্য স্মৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করছেন। তার রাজনৈতিক শিক্ষা ও দূরদর্শী দিকনির্দেশনা ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে দলটির শীর্ষ নেতারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #খালেদা_জিয়া #বিএনপি #সংবাদ