রাজধানীর আদাবর থানায় দায়ের করা মো. ইসহাক জমাদ্দার হত্যা মামলায় ঝালকাঠি–১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে (বীর উত্তম) গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশও দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এই আদেশের ফলে ইসহাক জমাদ্দার হত্যা মামলায় শাহজাহান ওমরের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

আজ সকালে শাহজাহান ওমরকে পুলিশ পাহারায় আদালতে হাজির করা হয় এবং কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতেই ইসহাক জমাদ্দার হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আদাবর থানার উপপরিদর্শক মহেশ চন্দ্র সিং আদালতের কাছে জানান যে, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্তে শাহজাহান ওমরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাই তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর আদালত শাহজাহান ওমরকে ইসহাক জমাদ্দার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।

মামলার প্রেক্ষাপট

পুলিশ গত ২৪ আগস্ট তারিখে ইসহাক জমাদ্দার হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেছিল। সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৩০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে রাজধানীর শ্যামলী ক্লাব মাঠসংলগ্ন এলাকায় মো. ইসহাক জমাদ্দার গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বরিশালের বামনা উপজেলার বেবাজিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৫ সালের ২ জুলাই তারিখে আদাবর থানার উপপরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার আদাবর থানা পুলিশের উপর ন্যস্ত করা হয়।

শাহজাহান ওমরের পূর্ববর্তী গ্রেপ্তার

ইসহাক জমাদ্দার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর এই আদেশের পূর্বে, সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর তারিখে ঝালকাঠির রাজাপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই সময় তাঁকে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা একাধিক ভিন্ন ভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারেই আটক রয়েছেন। ইসহাক জমাদ্দার হত্যা মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হলেও, তিনি পূর্ব থেকেই কারাগারে থাকায় তাঁর শারীরিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে এই আদেশের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেল।