কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে এক নববধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আতিকুর রহমান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার রাতে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটিতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বরপক্ষ হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে আতিকুর রহমান ওরফে মিয়াদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যিনি উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে। স্থানীয় ছাত্রদল নেতারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আতিকুর রহমান ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
ঘটনার বিস্তারিত
পুলিশ ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের এক তরুণীর সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার (২৮) বিয়ে সম্পন্ন হয়। নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় বরপক্ষ। রাত পৌনে আটটার দিকে হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক গাড়িটি থামান। এরপর তাঁরা মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালিয়ে নববধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান।
এই ঘটনার পর অভিযুক্ত আতিকুর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’ এই বিষয়ে তাঁর মন্তব্য জানতে আজ দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পুলিশের বক্তব্য
আতিকুর রহমানের ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। শরীফুল ইসলাম আরও জানান যে, আতিকুর রহমান ছাত্রদলের একজন সমর্থক, তবে তিনি দলীয় কোনো পদে না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, কনের পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে যে, আতিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করতেন। এই ঘটনায় বরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর কাছ থেকে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, তরুণীর সঙ্গে আতিকুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পারিবারিকভাবে এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় আতিকুর এই কাজটি করেছেন। ওসি আরও জানান, তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।