নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ: ছাত্ৰদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আসন কেন্দ্রিক বিরোধের জের ধরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর দু’টি পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মকাণ্ডের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সংগঠন। কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রেরিত এক জরুরি সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা সর্বসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
আসন পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সূত্রপাত
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আবাসন হলের সিট বা আসন পরিবর্তন করাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে এই ঘটনা ঘটে। হলের ভেতরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, কক্ষ ভাঙচুর এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে সংগঠনটির একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে দু’টি পৃথক বলয়ে বিভক্ত অনুসারীদের মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হাতাহাতি শুরু হয়।
এই ভয়াবহ ও বিশৃঙ্খল অপ্রীতিকর ঘটনায় অন্তর্দলীয় ছাত্রনেতাসহ কমপক্ষে ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ফলে পুরো বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা হলে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। আহতদের পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের হেনস্থা ও ব্যাপক সমালোচনা
সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত সংবাদকর্মীদের ওপরও চড়াও হন কতিপয় উত্তেজিত নেতাকর্মী। তথ্য সংগ্রহের সময় দুজন পেশাদার সাংবাদিককে তীব্রভাবে হেনস্থা ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এই ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অন্যান্য সাংবাদকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের লাঞ্ছিত করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই কঠোর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় অপরাধীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন
পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে নোবিপ্রবি প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করেছে। ক্যাম্পাসে সহিংসতা, অনিয়ম ও আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার নীতি ব্যক্ত করেছেন উপাচার্য। মূল কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত তদন্ত কমিটিকে নির্ধারিত তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিশদ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জমাদানের স্পষ্ট নির্দেশ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, নিরপেক্ষ ও সম্যক তথ্য সংবলিত তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া মাত্রই সহিংসতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকে কোনো প্রকার ছাড় বা অন্যায় সুবিধা প্রদান করা হবে না বলে প্রশাসনের উচ্চপর্যায় নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা জোরদার রয়েছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নোয়াখালী #সংবাদ