ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) প্রস্তাবিত মানবাধিকার ও গুম–সংক্রান্ত দুটি আইনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই নতুন আইনগুলো গুমের পথকে আরও সুগম করবে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুযোগকে সীমিত করবে। জাতীয় সংসদকে ‘মজলুমদের মিলনমেলা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এই আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সভাটি আজ শনিবার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্য, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তাবিত আইনের ত্রুটি

মীর আহমাদ বিন কাসেম, যিনি নিজেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হয়েছিলেন, তিনি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বর্তমান সরকারের আনা নতুন আইনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধে জাতিসংঘের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যুক্ত হয়ে এবং ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে যে আইনগুলো প্রণয়ন করেছিল, সেগুলোতে নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ ছিল।

তবে, বর্তমান সরকার সেই আইনগুলোর পরিবর্তে যে নতুন আইন আনছে, তাতে গুম-সংক্রান্ত কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে খর্ব করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার সুরক্ষায় গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা কমিয়ে দেবে এবং তাদের ভূমিকা কেবল নামমাত্র করে তুলবে।

‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত করার অভিযোগ

সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরও অভিযোগ করেন যে, আইনমন্ত্রী আরও শক্তিশালী আইন করার আশ্বাস দিলেও প্রস্তাবিত আইনে গুম-সংক্রান্ত কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে কার্যত ‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত করা হয়েছে। তিনি নতুন আইনের একটি বিশেষ বিধানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যেখানে বলা হয়েছে যে, কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করার পর সেই অভিযোগ আদালতে ভুল প্রমাণিত হলে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হবে। মীর আহমাদ বিন কাসেমের মতে, এই কঠোর বিধান গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে অভিযোগ করতে ভীত করবে এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথকে কঠিন করে তুলবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা

মীর আহমাদ বিন কাসেম আরও বলেন, যদি সরকারের বাইরে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের সুযোগ না থাকে, তাহলে এই আইনের মাধ্যমে বাহিনীকে একটি ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এই বার্তাটি হলো—‘তোমরা যা খুশি তা–ই করো, তোমাদের জবাবদিহি করার কেউ নেই।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা আরও কমে যাবে এবং তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, সাবেক গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং সাবেক গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস। বক্তারা গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং প্রস্তাবিত আইনের ত্রুটিগুলো সংশোধনের আহ্বান জানান।