সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে সরকারের তীব্র সমালোচনা

যাত্রাবাড়ীতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল গণসমাবেশে বিরোধীদলের শীর্ষ নেতা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বর্তমান সরকারের নীতি ও ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত-এর কাছ থেকে যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের জনগণ কোনোভাবেই প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর মেনে নেবে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী দেশের স্বাধীনতা, সীমান্ত এবং অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। দেশের বিচারব্যবস্থা, গণতন্ত্র এবং সীমান্ত সুরক্ষার ওপর বারবার আঘাত আসা সত্ত্বেও সরকার একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস রিলিজ প্রকাশ করা ছাড়া কার্যকর আর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক অব্যवस्था ও গণদাবি

রাজধানীর জনসভায় বক্তব্য প্রদানকালে বিরোধীদলীয় নেতা দেশের বর্তমান ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং তীব্র জ্বালানি সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশজুড়ে যে ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে, তার মূল কারণ সরকারের সঠিক পরিকল্পনার অভাব, অবাধ দুর্নীতি এবং সম্পদ লুটপাট। তিনি হুশিয়ারি প্রদান করে বলেন, “সরকার যদি দ্রুত জ্বালানির দাম কমাতে ব্যর্থ হয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত না করতে পারে এবং দেশের ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে না আনে, তবে জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের ক্ষমতার মসনদ থেকে টেনে নামানো হবে।” বাজেটের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি বলে সরকারের দাবিকে তিনি চরম মিথ্যাচার এবং জনগণের সাথে প্রতারণা বলে অভিহিত করেন।

রাজনৈতিক অপশাসন ও সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধে ব্যর্থতা

এনসিপি-র শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেন যে, সংবিধান পরিবর্তনের নামে দেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। যাদের অর্থ ও প্রভাবে নির্বাচনে জয়লাভ করা হয়েছিল, এখন তাদের হাতেই দেশের জাতীয় সম্পদ তুলে দেওয়া হচ্ছে। জাতীয়তাবাদের বুলি আওড়ালেও সরকার সীমান্তে নাগরিকদের হত্যা বন্ধ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর চলা দমন-পীড়ন ও নির্যাতন বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান

এই প্রতিবাদী গণসমাবেশে এনসিপি-র কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রধান নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার এবং গণভোটের চূড়ান্ত গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। স্বৈরাচারী ও নিপীড়নমূলক আচরণের বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তারা সতর্ক করে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #অর্থনীতি #এনসিপি #সংবাদ