আলেমদের কেবল মসজিদে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় সংকটে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান
কাকরাইলে অনুষ্ঠিত জাতীয় উলামা প্রতিনিধি সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আলেম সমাজকে কেবল মসজিদের ইমামতি, ওয়াজ-নসিহত কিংবা খুতবার মধ্যে দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জাতির যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সঠিক দিকনির্দেশনা, আদর্শিক ভূমিকা ও ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব নিয়ে তাদের সামনের সারিতে এগিয়ে আসতে হবে।
মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সম্মান ও সংযমের তাগিদ
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, আলেমদের চিন্তা ও মতাদর্শে ভিন্নতা থাকাটা স্বাভাবিক। অতীতেও মতপার্থক্য ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, তবে মতের অমিলের কারণে কাউকে অসম্মান বা কটূক্তি করা অনুচিত। তিনি বলেন, “কেউ সমালোচনা বা আক্রমণ করলেও পাল্টা আক্রমণ না করে ধৈর্য, সংযম ও দোয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানো বন্ধ করার জন্য তিনি আলেমদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
দ্বিমুখী শিক্ষার সমন্বয় ও আধুনিক গবেষণা জোরদারের গুরুত্ব
বাংলাদেশ-এর মুসলিম সমাজে আলিয়া ও কওমি—দুই ধারার শিক্ষারই প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এক ধারাকে বাদ দিয়ে অপর ধারা চলতে পারে না। আলিয়া শিক্ষায় শিক্ষিতরা সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় অবদান রাখছেন, অন্যদিকে কওমি ধারার আলেমরা দ্বীনের মূল চেতনা টিকিয়ে রেখেছেন। তাই উভয় ধারার আলেম ও শিক্ষিত মানুষদের পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, যে জাতি জ্ঞান ও গবেষণায় যত বেশি এগিয়ে যায়, সে জাতি বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। তাই ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি ও গবেষণাকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে হবে। যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা ও যথাযথ প্রস্তুতি অত্যন্ত অপরিহার্য।
শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান
ইসলামের মূল দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই; তবে আত্মরক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো বিশেষ দলের বিজয় নয়, বরং মানবতার কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে বর্তমান সমাজে নারী নিরাপত্তা ও মানুষের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আলেমদের সোচ্চার হতে হবে। সত্যকে সবসময় সত্য বলতে হবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে অবস্থান নিতে হবে।
সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলেমদের সরাসরি সম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি। তাই সমাজ পরিবর্তন ও ধর্মীয় সঠিক জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে মাদরাসায় ইসলামি শিক্ষা সংকোচন বন্ধ করা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য পে-স্কেল বাস্তবায়ন।
#জামায়াত #উলামা_সম্মেলন #বাংলাদেশ #ইসলামি_শিক্ষা