ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও তারেক রহমানের উন্নয়ন ভাবনার প্রচারে বিশাল সমাবেশ

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন ভাবনা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক নেতৃত্ব দেন। শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, কলাভবন এবং ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্য-এ গিয়ে সমাপ্ত হয়। পরবর্তীতে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

তারুণ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক বার্তা এবং সমন্বিত সচেতনতা সৃষ্টি

এই শোভাযাত্রায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অত্যন্ত উৎসাহিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। শোভাযাত্রায় তারেক রহমানের সমৃদ্ধ দেশ গড়ার রূপরেখা, তরুণদের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, কৃষি খাত ও পল্লী অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণ সম্পর্কিত বার্তা সংবলিত নানা ধরনের নান্দনিক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করা এবং সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা ছিল এ শোভাযাত্রার মূল উদ্দেশ্য। প্রায় ৮০০ নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ছাত্রদল নেতা তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, “তারেক রহমানের ভিশনারি নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, আত্মমর্যাদাশীল, নিরাপদ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।” তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, দেশের উন্নয়ন কেবল বড় বড় মেগা অবকাঠামো কিংবা দৃশ্যমান ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং দেশের প্রান্তিক কৃষকের জীবনমানের বৈপ্লবিক উন্নতি সাধন, তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি এবং সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করাই হলো সত্যিকারের উন্নয়নের মূল নির্যাস।

কৃষি প্রযুক্তি, পল্লী উন্নয়ন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি

তরিকুল ইসলাম তারিক জোর দিয়ে বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে বেগবান করতে কৃষক কার্ড বিতরণ, ফ্যামিলি কার্ড সরবরাহ, খাল পুনঃখনন প্রকল্প, পল্লী অঞ্চলের অবকাঠামো সংস্কার এবং নারী ও যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার মতো যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তিতে উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, কৃষকের অক্লান্ত শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের প্রিয় অর্থনৈতিক কাঠামো, তাই কৃষিব্যবস্থাকে দ্রুত আধুনিক ও প্রযুক্তিভিত্তিক করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব, সবুজ ও জলবায়ু-সহনশীল দেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

বক্তব্যে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, এমন এক সমাজব্যবস্থা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য যেখানে কোনো মা তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হবেন না, কোনো শিক্ষিত তরুণ চাকরির অভাবে হতাশায় ভুগবেন না এবং কোনো কৃষক তার ন্যায্য অধিকার ও পণ্যের সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন না। সংঘাত ও বিভেদ ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

#ছাত্রদল #ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয় #রাজনীতি #বাংলাদেশ