দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপির কঠোর হুঁশিয়ারি
ঢাকা-র শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যান এলাকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দায়িত্ব গ্রহণের পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দুই প্রবীণ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে নিজের নতুন সাংগঠনিক যাত্রা শুরু করেন তিনি। সে সময় তিনি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার বার্তা
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অসংগত বা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়লে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, “গত ৫ আগস্টের পর থেকে দলের সুনির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে যারা লিপ্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ইতিমধ্যে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।” তিনি সকল নেতাকর্মীকে যেকোনো ধরনের অনৈতিক বা বিভ্রান্তিকর পথ পরিহার করে গঠনমূলক ও জনকল্যাণমুখী কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখার আহ্বান জানান। তার মতে, জনগণের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখাই এখন দলের মূল লক্ষ্য।
তৃণমূলের নির্বাচন ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের সুনির্দিষ্ট কৌশল
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী অত্যন্ত স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনগুলো কোনো নিবন্ধিত দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে অনুষ্ঠিত হবে না। তবে তৃণমূল পর্যায়ে যোগ্য, সৎ এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন, উপজেলা, থানা এবং জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা গভীরভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করবেন। এরপর বিএনপি-র তৃণমূলের সাধারণ কর্মী, সমর্থক এবং সর্বস্তরের সমর্থকেরা সর্বসম্মতভাবে সেই সব প্রার্থীদের পাশে সুদৃঢ়ভাবে এসে দাঁড়াবেন।
জনপ্রিয়তার সূচক, জরিপের দাবি এবং ভবিষ্যতের রূপরেখা
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও নানামুখী চক্রান্ত সত্ত্বেও দলের ভাবমূর্তি অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে দাবি করেন রিজভী। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সাধারণ জনগণের মাঝে বিএনপি-র বর্তমান সমর্থনের হার ৫৪ থেকে ৫৬ শতাংশের কোটায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও ব্যাপক পরিচিতি বর্তমানে ৬৫ থেকে ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের এই বিপুল ভালোবাসাই তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তি।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই প্রশাসন মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে জনকল্যাণ জোরদার করা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং টেকসই অবকাঠামোগত ভিত্তি গড়ে তোলা। সরকারের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা এবং কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন। দল হিসেবে তারা এমন কোনো কর্মসূচি বা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বার্থের পরিপন্থী হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আমিনুল হকসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #বিএনপি