দিল্লিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বক্তাদের নিয়ে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। আয়োজকদের জানানো হয়েছে, ‘কিছু বিতর্কের’ কারণে এই আলোচনাসভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে দিল্লি পুলিশকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) বেলজিয়ামভিত্তিক সংগঠন ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’–এর সঙ্গে যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’।
অনুুমতি বাতিলের কারণ
অনুষ্ঠান বাতিল নিয়ে সরকারিভাবে কিছু বলা না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিরা থাকায় দিল্লি পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এর আগে গত ৫ আগস্ট এই ক্লাবেই বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতি এবং বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে তার মন্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ওই ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয় এবং ‘অবাঞ্ছিত প্ররোচনা’ বন্ধের নিশ্চয়তার দাবি করা হয়েছিল। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরও পিছিয়ে যায়। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, নতুন করে আর কোনো বিতর্ক সৃষ্টি এড়াতেই সম্ভবত শনিবারের এই আলোচনা সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ভারতের অবস্থান
ওয়াকিবহাল মহল এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে ভারতের আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে দেখছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাসিনা-বিতর্ক নিয়ে একাধিকবার জানিয়েছে যে, ওই মঞ্চ থেকে যা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ওই বক্তব্য ভারত সরকারের মনোভাবও নয়। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের মতে, শনিবারের আলোচনা সভা বন্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে এই বার্তাও দেওয়া হয়েছে যে, সম্পর্কের খাতিরে ভারত আর কোনো অহেতুক বিতর্ক চায় না।
আমন্ত্রিত বক্তারা
এফসিসিতে শনিবারের আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদের। তিনি ছাড়াও আমন্ত্রিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরান নবী। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, রোহিঙ্গা আন্দোলন অধিকারকর্মী রবি আলম, ইউনাইটেড ডিপ্লোমেটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবাল এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম জিলানিসহ অনেকে। চেক রিপাবলিকের রাজনীতিবিদ ওন্দ্রেজ দোস্তাল ও জার্মান রাজনীতিবিদ পিটার ফারেনহোল্টজেরও এই সেমিনারে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
আলোচনা সভার একটি অংশ ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। সেখানে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে কেউ কোনো রকম বিরূপ মন্তব্য করুক, সেটা সম্ভবত দিল্লি পুলিশ চায়নি। শনিবারই দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ওই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না। আবেদনপত্রে হাতে লিখে অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে ‘কিছু বিতর্ক’ উল্লেখ করা হয়। এফসিসির সভাপতি ওয়াইল আওয়াদ গণমাধ্যমকে বলেন, অনুষ্ঠানটি ছিল পার্টনারশিপ ও উন্নয়ন–সংক্রান্ত। তিনি আরও বলেন,
“এটা ছিল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা। আমি নিশ্চিত নই, দিল্লি পুলিশ কেন অনুমতি দিল না।”