জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ‘নজরুল স্মরণে’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্ত আসর এবং নজরুলচর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র ‘আমিই নজরুল’ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডির বিডিওএসএন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নজরুলবিষয়ক দুটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, আবৃত্তিশিল্পী ও সাহিত্যানুরাগীরা অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম ও জীবনদর্শন নিয়ে গভীর আলোচনা এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল। বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুণীজনরা নজরুলের বহুমুখী প্রতিভা এবং তাঁর সৃষ্টিকর্মের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
আলোচনা ও অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক এ কে এম শাহনেওয়াজ, গবেষক মোহাম্মদ আবদুল হাই, প্রাবন্ধিক খান মাহবুব এবং গবেষক মামুন সিদ্দিকী অংশ নেন। তাঁদের আলোচনায় নজরুলের সাহিত্য, দর্শন ও সামাজিক চিন্তাধারা উঠে আসে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লিয়াকত আলী এবং শিক্ষাবিদ নীরদ বরণ মজুমদারও তাঁদের মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, লেখক সোনিয়া তাসনিম, নজরুল গবেষক মাহবুবুল হক, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শক ইয়াকুব নবী, মাসুদ আহমেদ এবং কবি শরিফুল ইসলাম শরিফ আলোচনায় অংশ নেন। মুক্ত আসরের উপদেষ্টা ফারাহ দিবা আহমেদ, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আয়শা জাহান নূপুর এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৌশিক চাকমাও এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নজরুলের আদর্শ ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বই প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
‘নজরুল স্মরণে’ অনুষ্ঠানে নজরুলবিষয়ক দুটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে একটি হলো বন্দে আলী মিয়ার লেখা ‘ছোটদের নজরুল’ এবং অন্যটি অশোক কুমার সেনগুপ্তের ‘গিরিবালা সেনগুপ্ত: এক অবহেলিত মহীয়সী’। কাঠবিড়ালি প্রকাশন থেকে এই বই দুটি প্রকাশিত হয়েছে, যা নজরুলচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হয়।
মুক্ত আসরের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবু সাঈদ তাঁর বক্তব্যে কাজী নজরুল ইসলামের বহুমুখী পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
কাজী নজরুল ইসলাম কেবল কবি, শিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও ঔপন্যাসিক পরিচয়ের সঙ্গেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি একজন রাজনীতিবিদও ছিলেন। এই বছর তাঁর রাজনীতির শতবর্ষ পূর্তি হচ্ছে।
আবু সাঈদ আরও উল্লেখ করেন যে, নজরুলের চেতনা ও আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘আমিই নজরুল’ সারা বছরব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। এই ধরনের আয়োজন নজরুলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁর কর্ম ও চিন্তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়ক।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পী মুন্নী কাদের মনোমুগ্ধকর গান পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। এছাড়া, নাজমুন নাহার, জেসমিন বন্যা এবং সুরাইয়া আর চৌধুরী জাতীয় কবির কবিতা আবৃত্তি করেন। তাঁদের আবৃত্তিতে নজরুলের কবিতার গভীরতা ও আবেদন নতুন করে প্রকাশিত হয়।
সহযোগিতায় যারা ছিলেন
‘নজরুল স্মরণে’ অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনে সহযোগিতা করেছে স্বপ্ন ৭১ প্রকাশন, কাঠবিড়ালি প্রকাশন এবং বইবিষয়ক পত্রিকা ‘বইচারিতা’। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় একটি সফল ও অর্থবহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, যা জাতীয় কবির ৫০তম মহাপ্রয়াণ দিবসে তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে।