পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে স্থানীয় একজন শতবর্ষীয় আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. শাহ আলম মোল্লা (৬৭)। তাঁর পক্ষে অভিযোগ করা হয়েছে, আঘাত করে তার ডান পায়ের গোড়ালি ভেঙে দেয়া হয়েছে এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

পরিবারের তত্ত্বাবধানে জানানো হয়েছে যে শনিবার সন্ধ্যায় বালিয়াতলী ইউনিয়নের চৌরাস্তা এলাকায় শাহ আলম বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুসারে, সেখানে কয়েকজন এসে প্রথমে তাঁকে মারধর করে। পরে একটি গাছের গুঁড়ি দিয়ে ডান পায়ের গোড়ালি ভেঙে দেওয়া হয়। পরিবার বলেন, মর্মাহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জখমের পর পরিবার ও অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযোগপ্রকাশকারী পরিবারের এক সদস্য রুনা বেগম বলেন যে রবিবার তাদের পরিবারের একটি মৃত্যুবার্ষিকীর দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এবং সেই প্রস্তুতির জন্য শাহ আলম বাজারে গিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ স্থাপন করে বলেছেন যে হামলাকারীদের মধ্যে বিএনপির কর্মীরা রয়েছে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমানের লোকেরা এই হামলায় জড়িত।

‘রোববার আমার ছেলের মৃত্যুবার্ষিকী। এ জন্য বাড়িতে দোয়া-মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। আমার শ্বশুর দোয়া অনুষ্ঠানের জন্য কেনাকাটা করতে বালিয়াতলীর চৌরাস্তা বাজারে যান… প্রথমে আমার শ্বশুরকে মারধর করেন। এরপর একটি গাছের গুঁড়ি দিয়ে আমার শ্বশুরের ডান পায়ের গোড়ালি ভেঙে দেওয়া হয়। মারধরে আমার শ্বশুরের শরীর ও মাথায় জখম হয়েছে।’

অভিযোগে নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে হামলার সময় সেখানে সাত থেকে আটজন ব্যক্তি ছিল। ঘটনায় দলের কিছু পরিচিত ব্যক্তিদের দায়ী করা হলেও অভিযুক্ত বলে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

‘আমার কোনো লোক এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। কে বা কারা এই হামলা করেছে, তা আমি জানি না। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য শাহ আলম মোল্লা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।’

চিকিৎসা ও পুলিশি তৎপরতা

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং তাঁর শরীর ও মাথায় জখমের পাশাপাশি ডান পায়ের আঘাত গুরুতর ছিল, তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। শাহ আলমের পরিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে বলা হয়েছে।

এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই পুলিশ ধারণা প্রকাশ করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নির্ধারণ এবং অভিযোগ অনুসারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।